প্রতিনিধি ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ , ১:১৮:৫৩ প্রিন্ট সংস্করণ
নীলফামারীর সৈয়দপুরে রপ্তানিমুখী ক্ষুদ্র গার্মেন্টস ও কারচুপি শিল্প প্রায় ১৫০ কারখানা বন্ধ হয়েছে। এতে প্রায় ১০ হাজার শ্রমিক ও কর্মচারী কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। বন্ধ হওয়ার পিছনে মূল কারণ হলো সুতা ও অন্যান্য উপকরণের মূল্যবৃদ্ধি, দীর্ঘস্থায়ী পুঁজিসংকট, কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি।
শিল্প সমিতির তথ্য অনুযায়ী, গত দুই বছরে সৈয়দপুর উপজেলায় ছোট-বড় ১৫০টি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়েছে। এর মধ্যে ১০০টি স্থায়ীভাবে এবং ৫০টি অস্থায়ীভাবে বন্ধ রয়েছে। এতে প্রায় ১০ হাজার শ্রমিক-কর্মচারী কাজ হারিয়েছেন।
এক্সপোর্টেবল স্মল গার্মেন্টস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন (ইএসজিওএ) জানায়, পাকিস্তান আমল থেকেই সৈয়দপুরে ঝুট কাপড়ভিত্তিক পোশাক উৎপাদনের ঐতিহ্য রয়েছে। ২০০২ সালের পর এ শিল্পের ব্যাপক সম্প্রসারণ ঘটে। ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রাম থেকে সংগৃহীত ঝুট কাপড় ব্যবহার করে এখানে ট্রাউজার, শর্টস, জ্যাকেট, টি-শার্ট ও জিনস উৎপাদন করা হতো। এসব পোশাকের প্রধান রপ্তানি বাজার ছিল ভারত, নেপাল ও ভুটান।
মুন্সিপাড়া এলাকায় অবস্থিত রপ্তানিমুখী খান অ্যান্ড সন্স পোশাক কারখানাটিতে প্রায় শতাধীক নারী-পুরুষ শ্রমিক কাজ করতেন। তবে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বড় পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঝুট কাপড়ের সরবরাহ কমে যায় এবং দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায় এতে আর্থিক সংকটে পরে কারখানাটি। শেষ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
শ্রমিক হারুন-অর রশীদ বলেন, ‘সুতা ও অন্যান্য উপকরণের মূল্যবৃদ্ধি এবং দীর্ঘস্থায়ী পুঁজিসংকটের কারণে উপজেলার প্রায় ১৫০ কারচুপি শিল্পকারখানাও বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে আরও ১০ হাজারের বেশি দক্ষ কারিগর বেকার হয়ে পড়েছেন।’
শ্রমিক রিনা বেগম জানান, ঐতিহ্যবাহী ছোট বড় প্রায় দেড় শতাধিক কারচুপি শিল্পগুলি বন্ধ হয়ে গেছে। এতে প্রায় ১০ হাজার নারী-পুরুষ জীবিকা হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
শহরের রসুলপুর এলাকার বাসিন্দা আরজিনা বেগম জানান, স্বামীর মৃত্যুর পর কারচুপি কারখানায় কাজ করেই তিনি সংসার চালাতেন। সম্প্রতি ওই কারখানাটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তিনি চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন।
রপ্তানিমুখী ক্ষুদ্র গার্মেন্টস মালিক শিল্প সমিতির সভাপতি আকতার হোসেন খান জানান, ছোট বড় অনেক কারখানা বন্ধ হয়েছে। অনেক শ্রমিক কর্মহীন বেকার হয়ে পড়েছে।














