প্রচ্ছদ

প্রধান শিক্ষিকা শামীমা ইয়াছমিন সাময়িক বরখাস্ত : বঙ্গবন্ধুর ছবি টানানোকে ঘিরে বিতর্ক, উত্তপ্ত জনমত

  প্রতিনিধি ৫ আগস্ট ২০২৫ , ৬:০৭:৫৬ প্রিন্ট সংস্করণ

প্রধান শিক্ষিকা শামীমা ইয়াছমিন। ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক, পিরোজপুর: পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার সোনারঘোপ রমেশচন্দ্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা শামীমা ইয়াছমিনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নেছারাবাদ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. খোন্দকার জসিম আহমেদ।

গতকাল সোমবার (৪ আগস্ট) বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি টানানোকে কেন্দ্র করে ওঠা অভিযোগের প্রাথমিক তদন্তে সত্যতা পাওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।    উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জানান, “বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের ভিত্তিতে তদন্ত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। সেই প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতেই শামীমা ইয়াছমিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তদন্ত চলমান আছে। দোষী প্রমাণিত হলে বিভাগীয় মামলাসহ স্থায়ী বহিষ্কারের মতো সিদ্ধান্তও নেওয়া হতে পারে।”

শামীমা ইয়াছমিনের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তা তার স্বামী মো. হাফিজুর রহমান রিসিভ করে জানান, “সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা শুধু বলেছেন, অফিসে গিয়ে একটি চিঠি নিতে হবে। বরখাস্ত সংক্রান্ত কিছু বলেননি।”

ঘটনাটি নিয়ে নেছারাবাদে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একপক্ষ এই বরখাস্তকে স্বাধীন মতপ্রকাশের ওপর হস্তক্ষেপ ও রাজনৈতিক প্রভাবের ফল বলে অভিহিত করছে, অন্যপক্ষ প্রধান শিক্ষিকাকে “ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর” বলেও কটাক্ষ করেছে।

এদিকে, শিক্ষক সমাজের মধ্যে মতভেদ স্পষ্ট। কেউ এই সিদ্ধান্তকে “অবশ্যযোগ্য পদক্ষেপ” বলে স্বাগত জানালেও, কেউ কেউ এটিকে “অন্যায়” আখ্যা দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।

উল্লেখ্য, ৩ আগস্ট বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে বঙ্গবন্ধুর ছবি টানানোকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বিরোধিতার মুখে সাংবাদিকদের কাছে প্রধান শিক্ষিকা শামীমা ইয়াছমিন বলেন, “আমি একজন মুক্তিযোদ্ধার মেয়ে। আমার বাবা মইনউদ্দীন মাস্টার মুক্তিযুদ্ধে জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছেন। বঙ্গবন্ধু না হলে বাংলাদেশ হতো না — তাই তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে অফিসকক্ষে ছবি টানানো হয়েছিল।”

তিনি আরও বলেন, “বঙ্গবন্ধুর ছবি সরানোর জন্য কোনো সরকারি নির্দেশনা পাইনি। তাই ছবি সরানোর প্রয়োজন মনে করিনি।”

এই ঘটনায় প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের পাশাপাশি রাজনৈতিক-সামাজিক বিভাজনও স্পষ্টভাবে প্রকাশ পাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে আরও আলোচনার জন্ম দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আরও খবর

Sponsered content