সারাদেশ

বনানীতে চুরির আতঙ্ক: দিনে-দুপুরে ফ্ল্যাটে ঢুকে লুট, সক্রিয় চোর সিন্ডিকেট

  নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা ৪ এপ্রিল ২০২৬ , ৩:৫০:৫৭ প্রিন্ট সংস্করণ


রাজধানীর অভিজাত এলাকা বনানীতে আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে চুরির ঘটনা। দিনের আলো কিংবা গভীর রাত—তালা ভেঙে বা গ্রিল কেটে ফ্ল্যাটে ঢুকে পড়ছে চোরেরা। একের পর এক ঘটনায় বনানী থানাধীন এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে দিনের বেলা বাসায় একা থাকা নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, চোরদের হাতেনাতে ধরে পুলিশে দিলেও আইনি প্রক্রিয়ার কারণে তারা দ্রুত জামিনে বেরিয়ে এসে আবারও একই অপরাধে জড়াচ্ছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, চোরচক্র এখন দিনের বেলাকেও টার্গেট করছে। বনানী ওয়্যারলেস গেইট, আমতলী ও নিকেতন এলাকায় তাদের তৎপরতা বেশি। অনেক সময় ভবনের গ্রিল বা বারান্দা বেয়ে ওঠানামা করতে দেখা যায় সন্দেহভাজনদের।

ভুক্তভোগী কামরুজ্জামান রুবেল বলেন, “রমজানের শেষ দিকে দিনের বেলা আমার ফ্ল্যাটের তালা ভেঙে আড়াই লাখ টাকা ও কয়েক ভরি স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে গেছে। থানায় অভিযোগ দিয়েছি, কিন্তু এখনো কোনো অগ্রগতি নেই।”

একই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে নয়ন হোসেন বলেন, “দুপুরের মধ্যেই চুরির ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ করেছি, কিন্তু কিছু উদ্ধার হয়নি।”আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। ওয়্যারলেস গেইট এলাকার বাসিন্দা বাবুল বলেন,
“একজন চোরকে হাতেনাতে ধরে পুলিশের কাছে দিয়েছিলাম। সকালে দেওয়ার পর বিকেলেই তাকে এলাকায় ঘুরতে দেখেছি। এভাবে হলে অপরাধ থামবে কীভাবে?”


অনুসন্ধানে উঠে এসেছে চোরাই মালামাল বিক্রির একটি নেটওয়ার্ক। অভিযোগ রয়েছে, কড়াইল বস্তি ও মহাখালী আমতলী এলাকার কিছু ভাঙারি দোকানের সঙ্গে চোরদের যোগসাজশ রয়েছে। ভোরের আগে এসব দোকানে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আনাগোনা দেখা যায় এবং সস্তায় চোরাই মাল বিক্রি করা হয়।


স্থানীয়দের তথ্যমতে, কয়েকজন ব্যক্তি এই চক্রের নেতৃত্বে রয়েছে বলে অভিযোগ— ইলিয়াস (বেলতলা বস্তি), কুদ্দুস (এরশাদ নগর), ফর্মা শহীদ ও তার ভাগিনা হৃদয় (গোডাউন বস্তি) এবং শেখ সাদী সরদার (আমতলী এলাকা)।
তাদের বিরুদ্ধে চোরদের আশ্রয় দেওয়া ও চোরাই মাল বিক্রিতে সহায়তার অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম বলেন, “আমরা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি এবং কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছি। অনেক ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়ায় তারা জামিন পেয়ে যায়। ভাঙারি দোকানগুলোতেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।”

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, “এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে। বস্তিভিত্তিক অপরাধী চক্র শনাক্তে বিশেষ টিম কাজ করছে।”


সিসিটিভি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যেও দিনের বেলায় চুরির ঘটনা বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। দ্রুত চোর সিন্ডিকেট ভেঙে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

আরও খবর

Sponsered content