মোঃ কামরুল হাসান কাজল, ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: ২৮ অক্টোবর ২০২৫ , ১২:৩০:৫০ প্রিন্ট সংস্করণ
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাইকেরছড়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডে চুরির ঘটনা বেড়েই চলেছে। গত কয়েক মাসে একের পর এক চুরির ঘটনায় গ্রামবাসীর মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। নিজের কষ্টার্জিত সম্পদ রক্ষায় এখন শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন তারা।
গ্রামবাসীর সূত্রে জানা যায়, গভীর রাতে বসতবাড়ি থেকে মূল্যবান জিনিসপত্র ও গবাদি পশু পর্যন্ত চুরি হচ্ছে প্রায় নিয়মিতভাবে। রাত নামলেই যেন গ্রামে নেমে আসে চোর আতঙ্ক।
সম্প্রতি একাধিক বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটেছে। মেছবাহুল আলমের গরু, সেচপাম্প ও বাইসাইকেল, বাদশা মিয়ার বাড়ি থেকে রাইস কুকার ও ফ্যান, মুক্তার আলীর ছাগল এবং ছাত্তার আলীর পানির মোটর চুরি হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়রা জানান, বাদশা মিয়ার চুরি যাওয়া রাইস কুকারটি প্রতিবেশী আবুবকর নামে এক ব্যক্তির বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, কুকারটি তিনি আমিনুর রহমানের মাদকাসক্ত ছেলে সজিব মিয়ার কাছ থেকে কিনেছেন। পরবর্তীতে উদ্ধারকৃত মালামাল ইউপি সদস্য ও গ্রাম পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়।
গত ১৮ অক্টোবর পাইকেরছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক সরকারের উপস্থিতিতে গ্রামীণ সালিশি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সজিব মিয়া চুরির কথা স্বীকার করলেও বিশৃঙ্খলার কারণে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। পরে ২৪ ও ২৬ অক্টোবর নতুন করে বৈঠকের তারিখ নির্ধারণ করা হলেও রহস্যজনক কারণে তা অনুষ্ঠিত হয়নি।
এতে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। তারা অভিযোগ করেছেন, বারবার চুরির ঘটনা ঘটলেও দোষীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা বা কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না, ফলে সংঘবদ্ধ চোরচক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
এলাকাবাসীর দাবি, চোরচক্রকে দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক, যাতে এলাকায় শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরে আসে।
এ বিষয়ে জানতে পাইকেরছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক সরকার-এর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল হেলাল মাহমুদ বলেন,
“ঘটনাটি আমরা শুনেছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”















