শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি : ১৯ এপ্রিল ২০২৫ , ৫:৫৮:৪৩ প্রিন্ট সংস্করণ
বাড়ি নিয়ে পূর্ববিরোধ ও নদীপাড়ে মাচালপাতাকে কেন্দ্র করে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে ধারালো অন্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আজমীর হোসেন বিপুল (৪০) নামের এক যুবদলকর্মীকে প্রতিপক্ষের লোকজন হত্যা করেছে। নিহত আজমীর হোসেন বিপুল শাহজাদপুর উপজেলার পৌর সদরের রামবাড়ি মহল্লার মৃত মাজেদ শেখের ছেলে ও যুবদলকর্মী।
গত (১৮ এপ্রিল) শুক্রবার রাত সাড়ে ৭ টার দিকে নিহতের বাড়ির গেটের সামনে এ হামলা ও মারপিটের ঘটনা ঘটে। তাকে আশংকাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে ভর্তির করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ১০টার দিকে তিনি মারা যান। হামলাকারীরা আওয়ামীলাগের সমর্থক ও মাদক সেবন ও ব্যবসার সাথে জড়িত বলে নিহতের বড় ভাই হাজী নুরুজ্জামান শেখ দাবী করেছেন।
নিহতের বড়ভাই নুরুজাজামান জানান, বাড়ি নিয়ে পূর্ববিরোধ ও বাড়ির সামনের নদীপাড়ে বাঁশের মাচালপাতাকে কেন্দ্র করে একই এলাকার মোকছেদ আলী ওরফে বগা মেম্বারের ছেলে শহিদুল ইসলাম, রেজা, সাদ্দাম, রুবেল, কাওসার, তরিকুল ও মফিজ সহ ২০-২৫ জনের একটি দল লাঠি সোটা ও দেশীয় অস্ত্র শস্ত্র নিয়ে বিপুলের বাড়ির গেটের সামনে বিপুলকে কুপিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। এ সময় তার চিৎকারে বাড়ির ভিতর থেকে ছুটে এসে উদ্ধারের চেষ্টা করলে, নুরুজ্জামান, তার ছেলে আরফিন, মা নবীয়া খাতুন, বিপুলের স্ত্রী আমিনা খাতুন, ছেলে আরমান প্রতিপক্ষের মারপিটে আহত হয়। পরে বিপুলকে আশংকাজনক ভাবে উদ্ধার করে প্রথমে শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ১০টার দিকে তিনি মারা যান। খবর পেয়ে রাতেই শাহজাদপুর থানার ওসি আসলাম আলী সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
এ বিষয়ে নিহতের স্ত্রী আমিনা খাতুন বলেন, আমার স্বামীর চিৎকারে বাইরে ছুটে গিয়ে দেখি, খুনিরা আমার স্বামীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে একের পর এক কোপ ও রড দিয়ে এলোপাথারি ভাবে মারপিট করছে। আমি ঠেকানোর চেষ্টা করলে তারা আমাকে, আমার ছেলেকে ও বাড়ির সবাইকে পিটিয়ে আহত করেছে। আমি আমার স্বামীর হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই।
নিহতের মা নবীয়া খাতুন বলেন, আমি ছুটে গিয়ে সবার হাতে পায়ে ধরেছি। তারা আমার মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করে ফেলে দিয়েছে। আমি আবার ছুটে গিয়ে হাতে পায়ে ধরেছি। তারা আমার চোখের সামনেই আমার ছেলেকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে রক্তাক্ত করে ফেলে রেখে চলে গেলো। আমি আমার ছেলে হত্যার বিচার চাই। খুনিদের ফাঁসি চাই।
এ বিষয়ে শাহজাদপুর থানার ওসি আসলাম আলী বলেন, খবর পেয়ে সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে গভীর রাতে ঘটনাস্থলে যাই। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। বিপুলের লাশ সদর হাসপাতাল থেকে উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ শহীদ এম. মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, নিহত বিপুল যুবদলের একজন কর্মী সমর্থক ছিল। প্রতিপক্ষের সাথে পূর্ব বিরোধের জের ধরে এ হত্যাকান্ড ঘটেছে।
এ বিষয়ে জানতে বিপুল হত্যার প্রধান আসামী শহিদুল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হয়। কিন্তু তার ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ফারুক হাসান কাহার /এমআই














