আন্তর্জাতিক

বার্লিনে উৎসবে গাড়ি তুলে হামলার সন্দেহভাজন নিহত

  প্রতিনিধি ২৭ জুলাই ২০২৬ , ১:০০:০৬ প্রিন্ট সংস্করণ

জার্মানির রাজধানী বার্লিনে উৎসবে গাড়ি তুলে হামলার মূল সন্দেহভাজন পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছে। হামলার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তাকে খুঁজে বের করে পুলিশ। কর্মকর্তারা বলছেন, প্রাথমিক তদন্তে এটিকে ইসলামপন্থী সন্ত্রাসী হামলা বলে মনে হচ্ছে।

বার্তাসংস্থা আল-জাজিরা জানায়, রোববার বার্লিনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় স্পানডাউ জেলায় পুলিশের অভিযানের সময় সন্দেহভাজন আবদুল বাল্লুত নামের এক জার্মান নাগরিক নিহত হন। লেবানিজ বংশোদ্ভূত বাল্লুত পুলিশের দিকে ধারালো অস্ত্র নিয়ে তেড়ে এলে পুলিশ গুলি চালায় বলে জানিয়েছে বার্লিন পুলিশ। পরে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

বার্লিন পুলিশ জানায়, শনিবারের হামলার পর থেকে তাকে খুঁজে বের করতে ব্যাপক অভিযান চালানো হচ্ছিল। রোববার সন্ধ্যা ৬টার দিকে স্পানডাউয়ের একটি বাগান এলাকায় তাকে শনাক্ত করা হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, কর্মকর্তারা তাকে ঘিরে ফেললে তিনি ধারালো অস্ত্র হাতে তাদের ওপর হামলার চেষ্টা করেন। এরপর আত্মরক্ষার্থে পুলিশ গুলি চালায়।

শনিবার রাত ১০টার দিকে বার্লিনের ব্রান্ডেনবুর্গ গেটের কাছে টিয়ারগার্টেন পার্ক এলাকায় অনুষ্ঠিত উৎসবে একটি ভ্যান ভিড়ের মধ্যে উঠে যায়। এতে একজন নিহত এবং অন্তত ২৯ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

জার্মানির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডোব্রিন্ট বলেন, ‘এখন পর্যন্ত যা তথ্য পাওয়া গেছে, তাতে এটি একটি ইসলামপন্থী সন্ত্রাসী হামলার দিকেই ইঙ্গিত করছে।’

তিনি জানান, আবদুল বাল্লুত আগে থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে একাধিক অপরাধের রেকর্ড ছিল এবং তিনি উগ্রপন্থায় জড়িয়ে পড়েছিলেন। এর আগে তিনি এক বছর ১০ মাসের স্থগিত সাজা পেয়েছিলেন। জার্মান গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ইসলামিক স্টেটে (আইএস) যোগ দেওয়ার ব্যর্থ চেষ্টার পর গুরুতর সহিংস কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতি নেওয়ার অভিযোগে তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন।

তদন্তকারীদের ধারণা, ভ্যানটি দিয়ে মানুষের ওপর তুলে দেওয়ার পর বাল্লুত একটি মাচেটি নিয়ে আরও কয়েকজনকে আক্রমণ করেন। এরপর তিনি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান এবং ভ্যানটি পার্কে ফেলে রেখে যান।

জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘এই ভয়াবহ হামলার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত নিশ্চিত করা হবে এবং দায়ীদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে।’ একই সঙ্গে তিনি জনগণকে বিভক্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘যারা এই হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছেন, তারা যেন ভয় না পান।’

বার্লিনের মেয়র কাই ভেগনার বলেন, ‘একটি শান্তিপূর্ণ ও প্রাণবন্ত শোভাযাত্রার পর সহনশীল ও শান্তিপূর্ণ বার্লিনের ওপর নৃশংস হামলা চালানো হয়েছে। এটি আমাদের মুক্ত ও উদার সমাজের ওপর আঘাত।’ তবে তিনি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সন্দেহভাজনকে শনাক্ত ও খুঁজে বের করার জন্য বার্লিন পুলিশের প্রশংসা করেন।

এদিকে তদন্ত চলমান থাকলেও কীভাবে পুলিশের নজরদারিতে থাকা একজন ব্যক্তি এ ধরনের হামলা চালাতে সক্ষম হলেন, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

আরও খবর

Sponsered content