মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি ৩ ডিসেম্বর ২০২৫ , ৫:১৪:৪৩ প্রিন্ট সংস্করণ
রাজনগর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের কার্যালয় থেকে ফার্নিচার, দুটি এসি ও প্রায় ১৫টি সিলিং ফ্যান রহস্যজনকভাবে উধাও হয়ে গেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। কেউ সুনির্দিষ্টভাবে বলতে না পারলেও অনেকে অভিযোগ করছেন—সরকার পরিবর্তনের পরপরই এসব সামগ্রী সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
উপজেলা পরিষদ সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের পর চেয়ারম্যানের দপ্তরের জন্য নির্দিষ্ট কোনো কার্যালয় ছিল না। সে সময় পরিষদের আবাসিক এলাকার চেয়ারম্যানের বাসভবনকে অস্থায়ী কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করা হয়। পরবর্তী চেয়ারম্যান আছকির খান দায়িত্ব নেওয়ার পর সেখানে না বসে কর্মচারীদের বিনোদন কেন্দ্রকে কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার শুরু করেন।
২০১৮ সালের নির্বাচনে বিজয়ী চেয়ারম্যান শাহজাহান খান এই কার্যালয়েই আধুনিকায়ন করেন—নতুন ফার্নিচার, থাই গ্লাস, দুটি এসি ও অতিরিক্ত ফ্যান স্থাপন করা হয়। পরবর্তীতে উপজেলা পরিষদের নতুন চারতলা ভবন নির্মিত হলে চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানদের অফিস সেখানে স্থানান্তর করা হয়।
স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, সরকারের পরিবর্তনের পর চেয়ারম্যানের দপ্তরের এসব আসবাবপত্র, এসি এবং ফ্যান গায়েব হয়ে গেছে। পরিষদের হলরুমে সজ্জার জন্য স্থাপিত ১৫টির অধিক ফ্যানও নেই। এখন পর্যন্ত কেউই বলতে পারছেন না এসব সামগ্রী কোথায় নেওয়া হয়েছে বা কারা সরিয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা পরিষদের এক কর্মকর্তা বলেন, “আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই চেয়ারম্যান কার্যালয় ফাঁকা অবস্থায় আছে। কোনো ফার্নিচার বা এসি নেই, হলরুমের ফ্যানগুলিও উধাও। অনেকে বলছেন, উপজেলা পরিষদের সিএ অনুপ চন্দ্র দাস সরকারের পতনের পর এসব সরিয়ে নিয়েছেন, তবে প্রশাসনিকভাবে কেউ বিষয়টি খতিয়ে দেখেননি।”
এ বিষয়ে রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফাতেমা তুজ জোহরা বলেন, “আমি দায়িত্ব নেওয়ার সময় দুইটি রুম যেমন ছিল, এখনও তেমনই আছে। ফার্নিচার ও এসি বা ফ্যান কোথায় গেছে, সে বিষয়ে আমার জানা নেই। আমি খোঁজ নিয়ে বিষয়টি যাচাই–বাছাই করব।”
সরকারি সম্পদ এভাবে হারিয়ে যাওয়ার ঘটনায় স্থানীয় জনগণ ও পরিষদের কর্মকর্তাদের মধ্যে ক্ষোভ ও বিস্ময় দেখা দিয়েছে। তাঁরা দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের শনাক্ত এবং সরকারি সম্পদ পুনরুদ্ধারের আহ্বান জানিয়েছেন।





















