আবুল কাশেম রুমন, সিলেট প্রতিনিধি ২৬ অক্টোবর ২০২৬ , ৭:২২:৪১ প্রিন্ট সংস্করণ
সিলেটে বাড়ছে সবজি, মাছ, মুরগি ও ডিমসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। অথচ বাড়েনি মানুষের আয়। ফলে বাড়তি বাজার খরচ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা। বিশেষ করে সীমিত আয়ের পরিবারগুলোর সংসার চালাতে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বাজার তদারকি জোরদার ও পণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখার দাবি জানিয়েছেন ক্রেতারা।
রোববার ও সোমবার নগরের লালবাজার, কাজিরবাজার ও রিকাবীবাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, আলু ও পেঁপে ছাড়া অধিকাংশ সবজিই কেজিপ্রতি ৫০ টাকার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। বেগুন ৮০ থেকে ১২০ টাকা, গাজর ১০০ থেকে ১২০ টাকা এবং টমেটো ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পটল, ঢ্যাঁড়শ ও চিচিঙ্গার দাম ৬০ থেকে ৮০ টাকা। বরবটি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, বাঁধাকপি ৮০ টাকা এবং ফুলকপি ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আগাম শীতকালীন সবজি শিমের দাম কেজিপ্রতি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা। অন্যদিকে আলু ৩০ টাকা এবং পেঁপে ১৫ থেকে ২০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে।
সবজির পাশাপাশি চড়া মাছের বাজারও ভোগাচ্ছে ক্রেতাদের। প্রতি কেজি রুই মাছ ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, কাতলা ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা এবং মৃগেল ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চাষের পাঙাশ ১৮০ থেকে ২২০ টাকা এবং তেলাপিয়া ২২০ থেকে ২৪০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে। দেশি শিং, মাগুর ও চিংড়ির দাম আরও বেশি। ফলে অনেক ক্রেতাকেই পছন্দের মাছের বদলে তুলনামূলক কম দামের মাছ কিনতে হচ্ছে।
মুরগি ও ডিমের দামেও স্বস্তি নেই। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৮০ টাকা, সোনালি মুরগি ২৯০ থেকে ৩২০ টাকা এবং লাল লেয়ার মুরগি ৩৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফার্মের লাল ডিমের ডজন ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকা। গরুর মাংস কেজিপ্রতি ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
ক্রেতারা বলছেন, আয় না বাড়লেও প্রতিদিনের ব্যয় বাড়ছে। একই পরিমাণ টাকা নিয়ে বাজারে গিয়েও আগের মতো প্রয়োজনীয় পণ্য কেনা যাচ্ছে না। মাছ কিনলে সবজির পরিমাণ কমাতে হচ্ছে, আবার মাংস কিনতে গেলে অন্য খরচে কাটছাঁট করতে হচ্ছে। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি চাপে পড়ছে।
নগরের মির্জাজাঙ্গাল এলাকার বাসিন্দা নিলেন্দু ভট্টাচার্য বলেন, “শীতকালীন সবজির মৌসুম চলছে, এই সময় তো সবজির দাম কম থাকার কথা। অথচ পেঁপে আর আলু ছাড়া ৫০ টাকার নিচে কোনো সবজি নেই। বেগুন, টমেটো, শিম কিনতে গেলে দাম শুনেই মাথা ঘুরে যায়। আমাদের আয় তো বাড়েনি, কিন্তু বাজার খরচ প্রতিদিন বাড়ছে। তাহলে সাধারণ মানুষ চলবে কীভাবে? বাজারে সিন্ডিকেট থাকলে ভাঙতে হবে, আর যারা অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়াচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।”





















