সারাদেশ

রাজশাহীতে গ্রামীণ অবকাঠামো প্রকল্পে ৫৩ লাখ টাকার গরমিল ও ১১১ মেট্রিক টন চাল উধাও

  রাজশাহী প্রতিনিধি ৪ মার্চ ২০২৬ , ১০:২০:২১ প্রিন্ট সংস্করণ

 

রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলায় বাস্তবায়িত গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কার প্রকল্পে (টিআর) ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার প্রমাণ মিলেছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়-এর নিরীক্ষা প্রতিবেদনে প্রায় ৫৩ লাখ ১৪ হাজার ৯৭৯ টাকা আর্থিক গরমিলের পাশাপাশি ১১১ মেট্রিক টন চালের হিসাব না পাওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

২০২৪–২৫ অর্থবছরের নিরীক্ষা প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজশাহীর পবা, চারঘাট, গোদাগাড়ী ও পুঠিয়া উপজেলায় গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) প্রকল্পে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার স্বাক্ষর ছাড়াই অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। এছাড়া ভিজিএফ ও জিআর কর্মসূচির আওতায় চাল বিতরণে অনেক ক্ষেত্রে কোনো ভাউচার কিংবা বৈধ নথিপত্র পাওয়া যায়নি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় অর্ধকোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের পাশাপাশি বিনামূল্যে বিতরণের জন্য বরাদ্দকৃত ১১১ মেট্রিক টন চালের কোনো হদিস নেই। এই গরমিল ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের কার্যক্রমে মারাত্মক অব্যবস্থাপনার চিত্র স্পষ্ট করে তুলেছে।

এ বিষয়ে রাজশাহী জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল হাই সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মন্তব্য করতে অনীহা প্রকাশ করেন। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এটি দপ্তরের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং এ নিয়ে প্রশ্ন তোলার যৌক্তিকতা নিয়েও তিনি পাল্টা প্রশ্ন তোলেন।

অন্যদিকে, রাজশাহী জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার জানান, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে এখনও সম্পূর্ণ অবগত নন। পূর্ণাঙ্গ তথ্য না জেনে কোনো মন্তব্য করতে তিনি রাজি হননি। তবে বিস্তারিত জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন তিনি।

উল্লেখ্য, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক চিঠিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে এসব অনিয়মের ব্যাখ্যা চেয়ে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।

আরও খবর

Sponsered content