স্টাফ রিপোর্টার: ২২ আগস্ট ২০২৫ , ৮:৫৯:২৩ প্রিন্ট সংস্করণ
রাজশাহী জেলার এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চলছে প্রধান শিক্ষক ছাড়া। জেলার ১ হাজার ৫৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৩৮৯টিতে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে ৬১টি পদ মামলা-সংক্রান্ত জটিলতায় আটকে আছে।
বছরের পর বছর পদোন্নতি ও নিয়োগ বন্ধ থাকায় সংকট দিন দিন গভীর হচ্ছে। জেলার ৯টি উপজেলা ও মহানগরজুড়ে এই ঘাটতি বিরাজ করছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক অবস্থা বাগমারা উপজেলায়, যেখানে সর্বোচ্চ ৯৭টি বিদ্যালয়ে কোনো প্রধান শিক্ষক নেই। এরপরই আছে গোদাগাড়ী ৭১টি বিদ্যালয় নিয়ে। এছাড়া তানোরে ৬২টি, চারঘাটে ৩৮টি, পুঠিয়ায় ২৭টি, বাঘায় ২২টি, পবায় ২১টি, দুর্গাপুরে ২১টি, মোহনপুরে ২০টি এবং বোয়ালিয়া থানায় ১০টি বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষকশূন্য। এসব বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকরা ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
পবা উপজেলার ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নফুরা খাতুন বলেন, “প্রধান শিক্ষক না থাকায় আমাদের হাতে কোনো প্রশাসনিক ক্ষমতা নেই। অথচ মিড-ডে মিল, সরকারি ডেটা আপলোড, সভা, অভিভাবক সংযোগসহ নানান দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে। এতে পাঠদানে মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।”
কালুপাড়া মাধাইপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাসুমা আক্তার বলেন, “ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি ঠিকই, কিন্তু প্রশাসনিক সব দায়িত্ব সামলানো একজন সহকারী শিক্ষকের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর। পূর্ণ ক্ষমতা না থাকায় অনেক জরুরি সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না।”
রাজশাহী জেলা সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. হারুন অর রশিদ জানান, “২০১০ সালের পর সরাসরি প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ২০১৮ সালে কিছু সহকারী শিক্ষককে চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, তারাও এখন অবসরে গেছেন। ফলে ভয়াবহ সংকট তৈরি হয়েছে।”
রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) টুকটুক তালুকদার বলেন, “আমরা নিয়মিত শূন্যপদের তালিকা পাঠাচ্ছি। কিন্তু পদোন্নতি না হওয়ায় সংকট কাটছে না।”
রাজশাহী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ কে এম আনোয়ার হোসেন বলেন, “সরকার পদোন্নতি বা নিয়োগ না দিলে আমাদের কিছু করার নেই। এভাবেই চলছে।”





















