সোহেল খান দূর্জয়, নেত্রকোনা ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ , ৭:৩৫:০১ প্রিন্ট সংস্করণ
নেত্রকোণার হাওরাঞ্চলে ফসল রক্ষা বাঁধের নির্মাণ কাজ নির্ধারিত সময়ে শুরু না হওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। সময়সূচি অনুযায়ী কাজ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও এখনো পর্যন্ত জেলার হাওরগুলোতে বাঁধ নির্মাণের কার্যক্রম শুরু হয়নি। এতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা যাবে কিনা—এ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। কৃষকদের আশঙ্কা, আগাম বন্যা হলে একমাত্র বোরো ফসল মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে।
নিয়মানুযায়ী ৩০ অক্টোবরের মধ্যে প্রকল্প নির্ধারণ, ৩০ নভেম্বরের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠন, ১৫ ডিসেম্বর বাঁধের নির্মাণ শুরু এবং ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ করার কথা। তবে চলতি মৌসুমে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এখনো পিআইসি গঠন সম্পন্ন করতে পারেনি। ফলে বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি।
পাউবো ও জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নেত্রকোণা জেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে ১৩৪টি হাওর রয়েছে। এসব হাওরে প্রায় ৪০ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ করা হয়। হাওরের একমাত্র বোরো ফসল রক্ষায় ১৪৯ কিলোমিটার অস্থায়ী বাঁধ নির্মাণের প্রয়োজন হয়। গত বছর জেলার ৭টি উপজেলায় ১৪৯ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ করা হয়। এ জন্য ১৯১টি পিআইসি গঠন করে ২২ কোটি ৬৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। তবে এবার এখনো পর্যন্ত জরিপ কাজ পুরোপুরি শেষ না হওয়ায় কতগুলো পিআইসি গঠন হবে এবং বরাদ্দ কত হবে তা চূড়ান্ত করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।
মোহনগঞ্জ উপজেলার বরান্তর গ্রামের কৃষক আব্দুর মতিন, শাহিনুর মিয়া, শুভ ও কাশেম মিয়া বলেন, “ঋণ করে আমরা বোরো চাষ করি। বাঁধের কাজ সময়মতো শুরু না হওয়ায় আমরা আতঙ্কে আছি। আগাম বন্যায় ফসল নষ্ট হলে পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম বিপদে পড়তে হবে। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নজরদারি জরুরি।”
খালিয়াজুরী উপজেলার লেপসিয়া এলাকার কৃষক হাবিবুর রহমান বলেন, “একটি বোরো ফসলের ওপরই আমাদের সারাবছরের জীবিকা নির্ভর করে। সঠিক সময়ে বাঁধ নির্মাণ না হলে আগাম বন্যায় সব ধান ডুবে যাবে। এবার কাজ শুরুতেই দেরি হয়েছে, এতে সময়মতো শেষ হওয়া নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।”
পাউবো সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্প বাস্তবায়ন ও তদারকিতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে সরাসরি যুক্ত করা হয়। জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসককে সভাপতি ও পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলীকে সদস্য সচিব করে কমিটি গঠন করা হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে ইউএনও সভাপতি ও পাউবোর একজন কর্মকর্তা সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। উপজেলা কমিটি প্রকল্প নির্ধারণ ও পিআইসি গঠন করে জেলা কমিটিতে পাঠায়, পরে জেলা কমিটি চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়। প্রতিটি প্রকল্পে প্রকৃত কৃষক ও স্থানীয় সুবিধাভোগীদের নিয়ে পাঁচ থেকে সাত সদস্যের পিআইসি গঠন করা হয়।
এ বিষয়ে নেত্রকোণা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রকল্পের সদস্য সচিব মো. শাখাওয়াত হোসেন বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বলেন, “জরিপ কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আগামী সপ্তাহেই পিআইসি গঠন করে বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করা সম্ভব হবে। জরিপের রিপোর্ট হাতে না পাওয়ায় এখনই বরাদ্দ ও পিআইসির সংখ্যা বলা যাচ্ছে না। দেরিতে শুরু হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করা যাবে।”
খালিয়াজুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাদির হোসেন শামীম বলেন, “উপজেলায় কমিটির কাজ প্রায় শেষ। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সার্ভে জটিলতার কারণে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তবে আশা করছি সময়মতো বাঁধের কাজ সম্পন্ন হবে।”
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও প্রকল্পের সভাপতি মো. সাইফুর রহমান বলেন, “চলতি সপ্তাহেই পিআইসি গঠন সম্পন্ন হবে এবং আগামী সপ্তাহে বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে। হাওরের পানি নামতে দেরি হওয়া ও কিছু স্থানীয় জটিলতার কারণে বিলম্ব হয়েছে। সব সমস্যার সমাধান করে কাজ শুরু হয়েছে এবং নির্ধারিত সময়েই কাজ শেষ করা সম্ভব হবে।”




















