বরুণ ব্যানার্জী , সাতক্ষীরা ৭ এপ্রিল ২০২৬ , ৪:১৭:৫৭ প্রিন্ট সংস্করণ
ঋতু পরিবর্তনের প্রভাবে সাতক্ষীরায় আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে শিশুদের সর্দি-জ্বর, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ার প্রকোপ। হঠাৎ রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় জেলা সদর হাসপাতালে তীব্র শয্যাসংকট দেখা দিয়েছে।
ফলে অনেক অসুস্থ শিশুকে বাধ্য হয়ে হাসপাতালের বারান্দা বা মেঝেতে থেকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ মার্চ থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত ২৪ দিনে সর্দি, কাশি, জ্বর ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ১৩২ জন শিশু ভর্তি হয়েছে। একই সময়ে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে আরও ২৪২ জন। বর্তমানে শিশু ওয়ার্ডে ৬৭ জন এবং ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ২২ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের ধারণক্ষমতার তুলনায় কয়েকগুণ বেশি রোগী আসায় চিকিৎসা ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে। শয্যা না পেয়ে অনেক অভিভাবক তাঁদের শিশুদের নিয়ে বারান্দা কিংবা মেঝেতে অবস্থান করছেন।
তালা উপজেলার ইসলামকাটি গ্রামের সবুজ গাজী জানান, তাঁর পাঁচ বছরের ছেলে মাহিম হুসাইন জ্বর ও খিঁচুনিতে আক্রান্ত হলে দ্রুত হাসপাতালে আনেন। কিন্তু বেড না পেয়ে তিন দিন ধরে বারান্দাতেই থাকতে হচ্ছে। একই ধরনের ভোগান্তির কথা জানান আটুলিয়া গ্রামের শরিফুল ইসলাম, যার মেয়েও শয্যা ছাড়াই চিকিৎসা নিচ্ছে।
চিকিৎসকদের মতে, আবহাওয়ার হঠাৎ পরিবর্তনের কারণে শিশুরা বেশি ঝুঁকিতে থাকে। সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. রিয়াদ হাসান বলেন, ঠান্ডা-গরমের তারতম্য ও আবহাওয়ার অস্থিরতায় শিশুদের দ্রুত অসুস্থ হওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রাথমিক অবস্থায় চিকিৎসা না নেওয়ায় রোগ জটিল হয়ে হাসপাতালে আসছে।
সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. শামছুর রহমান সতর্ক করে বলেন, এখনই সচেতনতা না বাড়ালে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
শিশুদের সুরক্ষায় চিকিৎসকরা কয়েকটি পরামর্শ দিয়েছেন—আবহাওয়ার পরিবর্তন থেকে শিশুদের সুরক্ষা, রোদ থেকে এসে হঠাৎ ঠান্ডা পরিবেশ এড়িয়ে চলা, নিয়মিত হাত ধোয়া, পুষ্টিকর ও ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ানো। পাশাপাশি উচ্চ জ্বর, শ্বাসকষ্ট বা খিঁচুনি দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সীমিত সক্ষমতার মধ্যেও সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সময়ে অভিভাবকদের সচেতনতাই শিশুদের সুরক্ষার সবচেয়ে বড় ভরসা।




















