নিজস্ব প্রতিবেদক: ১২ নভেম্বর ২০২৫ , ১১:০১:১৪ প্রিন্ট সংস্করণ
চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা, আওয়ামী লীগের ঘোষিত ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচি এবং দেশজুড়ে সহিংসতা ও অগ্নিসংযোগের প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তা সতর্কতা হিসেবে রাজধানীর বেশ কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সশরীরে ক্লাস স্থগিত করে অনলাইনে কার্যক্রম চালানোর ঘোষণা দিয়েছে।
আজ ও আগামীকাল (১২ ও ১৩ নভেম্বর) নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি (NSU), ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি (EWU), ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (WUB) সহ একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইন ক্লাস অনুষ্ঠিত হবে।
যদিও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আনুষ্ঠানিকভাবে সিদ্ধান্তের কোনো কারণ উল্লেখ করেনি, তবে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি গত ১১ নভেম্বর এক বিজ্ঞপ্তিতে ‘অনিবার্য কারণে’ ১২ ও ১৩ নভেম্বর সব ক্লাস অনলাইনে নেওয়ার ঘোষণা দেয়। একই সঙ্গে নির্ধারিত পরীক্ষাগুলো স্থগিত করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও ১৩ নভেম্বর বাসা থেকে কাজ করবেন।
ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ জানিয়েছে, ১২ নভেম্বর থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সব ক্লাস অনলাইনে চলবে। এরই মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস চলাচলও বন্ধ রাখা হয়েছে।
নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি জানিয়েছে, ১৩ নভেম্বরের সব ক্লাস অনলাইনে অনুষ্ঠিত হবে। অন্যদিকে ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ULAB) তাদের বাস চলাচল স্থগিত করেছে।
গত তিন দিনে রাজধানী ঢাকা, গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে একাধিক বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। অগ্নিসংযোগের শিকার যানবাহনের মধ্যে শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজির একটি বাসও রয়েছে। গতকাল রাত ও আজ ভোরে গাজীপুরের কাশিমপুর, শ্রীপুর ও আশুলিয়ায় পার্ক করা অন্তত চারটি বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা।
এর আগে ১১ নভেম্বর ময়মনসিংহে একটি বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় একজন নিহত ও দুজন গুরুতর আহত হন। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ককটেল ও পেট্রল বোমা বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটেছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার আজ ঢাকা ও আশপাশের জেলাগুলোতে ১৪ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করেছে।
এদিকে, আগামীকাল (১৩ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে রায়ের তারিখ ঘোষণা করা হবে। এ রায়কে ঘিরেও নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা করছে প্রশাসন।














