প্রতিনিধি ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ , ১২:২৫:১৬ প্রিন্ট সংস্করণ
নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে অহিংস, বুদ্ধিবৃত্তিক, স্রষ্টা ও পরকালকেন্দ্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠিত হোক—এই শ্লোগানকে সামনে রেখে সিলেটে দুই দিনব্যাপী “হাছন উৎসব-২০২৫” শেষ হয়েছে। রবিবার (২১ ডিসেম্বর) ও সোমবার (২২ ডিসেম্বর) নগরীর চৌহাট্টাস্থ কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এই উৎসবে বাংলা লোকসংস্কৃতির কিংবদন্তি মরমী সাধক হাছন রাজার জীবন, দর্শন ও সংস্কৃতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।
বাংলার চিরায়ত সূফীবাদী সংস্কৃতিকে উজ্জীবিত করার লক্ষ্যে হাছন রাজা লোকসাহিত্য ও সংস্কৃতি পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সহযোগিতায় আয়োজন করা এই উৎসবে ছিল আলোচনা সভা, আবৃত্তি ও হাছন রাজার গান পরিবেশনা।
উৎসবের সমাপনী দিনে হাছন রাজা লোকসাহিত্য ও সংস্কৃতি পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ডা. মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম অচিনপুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ (কেমুসাস) এর সাধারণ সম্পাদক সেলিম আউয়াল, বাংলাদেশ বেতারের সিলেট আঞ্চলিক প্রধান আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তারেক, সিলেট জেলা বিএনপির সহ-সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা জাসাসের সদস্য সচিব রায়হান হোসেন খান।
সভায় বক্তারা বলেন, হাছন রাজার রচিত গান ও দর্শন মানবতা, মরমী সাধনা এবং আধ্যাত্মিক চিন্তার মাধ্যমে সমাজে শান্তি ও শুদ্ধচেতনা স্থাপনের শিক্ষা দেয়। তাঁর রচনাগুলোতে সহজ ও সরল ভাষায় মানবতার চিরন্তন বাণী প্রতিফলিত হয়েছে। বক্তারা আরও বলেন, সমাজে হাছন রাজাকে নিয়ে কিছু বিভ্রান্তি বিদ্যমান, যা দূর করার জন্য গবেষণা ও প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে তাঁর দর্শন পৌঁছে দিতে হবে।
উৎসবে লেখক দেওয়ান সমসের রাজা চৌধুরী এবং হাছন গবেষক সামারীন দেওয়ানকে “হাছন রত্ন” সম্মাননা প্রদান করা হয়। সামারীন দেওয়ানের পক্ষে সম্মাননা গ্রহণ করেন সেলিম আউয়াল। এছাড়া প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও পৃষ্ঠপোষকদের ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
উৎসবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট অনলাইন প্রেস ক্লাবের সভাপতি গুলজার আহমেদ হেলাল, হাছন রাজা লোকসাহিত্য ও সংস্কৃতি পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক সোলেমান হোসেন চুন্নু, সিনিয়র সহসভাপতি বিরহী কালা মিয়া, সহ-সভাপতি আসাদুজ্জামান নূর, সাংবাদিক এম এ হান্নান, সহ-সভাপতি আহমেদুর রহমান ইকবাল, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ আলাউদ্দিন হোসেন শাহ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জহির চৌধুরী, প্রচার সম্পাদক শাহান উদ্দিন নাজু, এবং হাছন রাজা উৎসবের অন্যান্য সহযোগী ও স্বেচ্ছাসেবকরা।
ডা. জহিরুল ইসলাম অচিনপুরী জানান, প্রাথমিকভাবে উৎসব ২০ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও শহীদ ওসমান হাদীর মৃত্যু ও রাষ্ট্রীয় শোকের কারণে এটি ২১ ডিসেম্বর থেকে আয়োজন করা হয়। দুই দিনব্যাপী উৎসব শীত ও কুয়াশায় ঘেরা ব্যস্ত নগরীতে ব্যাপক মানুষের উপস্থিতি টানতে সক্ষম হয়েছে।





















