মো: সাকিব চৌধুরী, স্টাফ রিপোর্টার: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ৯:৫৬:২০ প্রিন্ট সংস্করণ
রংপুর-৩, ৪ ও ৬ আসনে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর মাধ্যমে বিজয় ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ এনে ঘোষিত ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে বিক্ষোভ মিছিল ও জেলা প্রশাসক (ডিসি) কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।
রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত কয়েক হাজার নেতাকর্মী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে অবস্থান নেন। এ সময় ভোট পুনর্গণনার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন তারা। প্রায় তিন ঘণ্টা অবস্থান কর্মসূচি শেষে প্রার্থীরা লিখিতভাবে পুনর্গণনার আবেদন করেন।
বিক্ষোভে উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও রংপুর-৩ আসনের প্রার্থী শামসুজ্জামান সামু, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও রংপুর-৪ আসনের প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসা এবং জেলা বিএনপি আহ্বায়ক ও রংপুর-৬ আসনের প্রার্থী সাইফুল ইসলামসহ বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক।
কর্মসূচি থেকে তিন প্রার্থীই রিটার্নিং কর্মকর্তার ঘোষিত ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেন এবং অবিলম্বে ভোট পুনর্গণনার দাবি জানান। দাবি পূরণ না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়।
রংপুর-৩ আসনের প্রার্থী শামসুজ্জামান সামু অভিযোগ করেন, প্রশাসনিক হস্তক্ষেপে তিনটি আসনের ফলাফল পরিবর্তন করা হয়েছে। তিনি বলেন, “দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চলবে।”
রংপুর-৪ আসনের প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসা বলেন, “ভোট পুনর্গণনা করে যে ফলাফল হবে, আমরা তা মেনে নেব।”
রংপুর-৬ আসনের প্রার্থী সাইফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করা হয়েছে। তবে তিনি নির্দিষ্ট প্রমাণের বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের তদন্তের ওপর ছেড়ে দেন।
একপর্যায়ে আবেগাপ্লুত হয়ে এমদাদুল হক ভরসা জেলা প্রশাসকের উদ্দেশে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ এনামুল আহসান বলেন, ভোট গণনা শেষে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কার্যালয় থেকে সফটওয়্যারভিত্তিক ফলাফল সমন্বয় করে চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করা হয়েছে। ইতোমধ্যে নির্বাচনি গেজেট প্রকাশিত হয়েছে।
তিনি জানান, রংপুর-৩, ৪ ও ৬ আসনের প্রার্থীদের করা পুনর্গণনার আবেদন যথাযথভাবে গ্রহণ করে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে পাঠানো হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রংপুর-৩: জামায়াত প্রার্থী মাহবুবার রহমান বেলাল ১,৭৮,০৬৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। বিএনপির শামসুজ্জামান সামু পান ৮৫,৪৯৮ ভোট।
রংপুর-৪: জাতীয় নাগরিক পার্টির আক্তার হোসেন ১,৪৯,৯৬৬ ভোট পেয়ে জয়ী হন। বিএনপির এমদাদুল হক ভরসা পান ১,৪০,৫৬৪ ভোট।
রংপুর-৬: জামায়াত প্রার্থী নুরুল আমিন পান ১,২০,১২৮ ভোট। বিএনপির সাইফুল ইসলাম পান ১,১৭,৭০৩ ভোট।
প্রার্থীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের দিকে এখন নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।




















