খেলাধুলা

ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা মহারণে বাড়তি উত্তেজনা

  প্রতিনিধি ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ১:০২:২৫ প্রিন্ট সংস্করণ

অনেকেই ম্যাচটিকে বলছেন ‘ফাইনালের আগেই ফাইনাল’। ভারত আগেই ছিল স্পষ্ট ফেবারিট, আর কঠিনতম গ্রুপ থেকে অপরাজিত থেকে উঠে এসেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তাদের সহজ জয় ইতোমধ্যে সতর্কবার্তা পাঠিয়ে দিয়েছে প্রতিপক্ষদের কাছে।

গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনাল দিয়ে শুরু হওয়া দুই দলের নতুন প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও তীব্র হয়েছে। সেই ফাইনালে ৩৫ ওভার দাপট দেখিয়েও হারতে হয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকাকে। পরে ভারতে টেস্ট সিরিজে স্বাগতিকদের হোয়াইটওয়াশ করে হিসাব চুকায় তারা।

এ ম্যাচে বাজি অনেক বড়। শুধু ভারতের হারানোর কিছু নেই— এমনটা আর বলা যাচ্ছে না। যদিও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে টানা ১২ ম্যাচ জয়ের রেকর্ড ভাঙতে চায় না ভারত। তবে দক্ষিণ আফ্রিকারও হারানোর অনেক কিছু আছে। এই ম্যাচ হারলে বাকি দুই ম্যাচ জিততেই হবে, তবু সেমিফাইনালে ওঠা নিশ্চিত নয়। গ্রুপ–১ সুপার এইট পর্বের এটি এক জমজমাট সূচনা।

আহমেদাবাদের কন্ডিশনের সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকা বেশ পরিচিত; চার ম্যাচের তিনটিই তারা খেলেছে এখানে। তবে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ মানেই আহমেদাবাদ— এমন অভিজ্ঞতা ভারতেরও কম নয়। সবশেষ এখানে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টিতে টস হেরে ২৩১ রান তুলে বড় জয় পেয়েছিল ভারত। তখন দক্ষিণ আফ্রিকা নিজেদের সেরা একাদশ নিয়েই ছিল অনিশ্চিত। এবার তারা অনেক বেশি প্রস্তুত এবং লড়াইয়ে নামতে চায় শক্তভাবে।

সর্বশেষ পাঁচ টি-টোয়েন্টিতে ভারত ৪টিতে জিতেছে, একটি হেরেছে। তবে দক্ষিণ আফ্রিকারও একই পরিসংখ্যান।

এই আসরে আলো ছড়াচ্ছেন দুই ওপেনার ইশান কিশান ও আইডেন মার্করাম। কিছুদিন আগেও কেউই ওপেন করতেন না। সৈয়দ মুশতাক আলি ট্রফিতে পারফরম্যান্সের সুবাদে ওপেনিংয়ে জায়গা পান কিশান। আর গত ডিসেম্বরে আহমেদাবাদে ভারতের বিপক্ষে সিরিজে মার্করাম খেলেছিলেন পাঁচ নম্বরে। এখন দুজনই টুর্নামেন্টের সেরা ওপেনারদের মধ্যে— প্রায় দুই বলে এক রান হারে ১৭০’র ঘরে রান করেছেন। কৌশল নির্ধারণী বৈঠকে তাদের ঘিরেই থাকবে বড় আলোচনা।

ভারতের হয়ে শেষ ম্যাচে ফিরেছিলেন আর্শদীপ সিং। তবে অক্ষর প্যাটেলকে বিশ্রাম দিয়ে সুযোগ দেওয়া হয়েছিল ওয়াশিংটন সুন্দরকে। এই ম্যাচে অক্ষরের ফেরার সম্ভাবনাই বেশি।

দক্ষিণ আফ্রিকা শেষ ম্যাচে লুঙ্গি এনগিদিকে বিশ্রাম দিয়ে কাগিসো রাবাদা ও আনরিখ নরকিয়েকে পরীক্ষা করেছে। এনগিদি এখনও দলের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি; তাই একাদশে ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে। রাতের ম্যাচ হওয়ায় করবিন বশের খেলার সম্ভাবনা জর্জ লিন্ডের চেয়ে বেশি।

আহমেদাবাদের রাতের ম্যাচগুলো সাধারণত রানসমৃদ্ধ এবং রান তাড়া করার জন্য সুবিধাজনক। তবে এই ম্যাচটি কালো মাটির উইকেটে হবে, যেখানে গতি কিছুটা কম থাকতে পারে। ফেব্রুয়ারিতে তাপমাত্রা প্রায় ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস— যা কিছুটা চিন্তার কারণ হতে পারে। তবে বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই।

পরিসংখ্যান

# টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে মুখোমুখি লড়াইয়ে ভারত এগিয়ে ৫-২ ব্যবধানে।

# এক পঞ্জিকাবর্ষে ভারতের হয়ে সর্বাধিক ‘ডাক’ মারার রেকর্ড এখন অভিষেক শর্মার— পাঁচবার, যার তিনটিই এসেছে এই বিশ্বকাপে।

আরও খবর

Sponsered content