সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধিঃ ৭ মে ২০২৬ , ৫:৩৭:১০ প্রিন্ট সংস্করণ
সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন জেলায় ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা শুরু হয়েছে। গুঞ্জন রয়েছে, দ্রুতই সাতক্ষীরাতেও নতুন কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে। ইতোমধ্যে সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদপ্রত্যাশীরা কেন্দ্রে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন।
নতুন কমিটির নেতৃত্ব নিয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা চলছে। এ বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের সাবেক আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম মানিক বলেন, তারা জে এম দুদায়েভ মাসুদ খান অর্ঘ্যকে সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রদলের শীর্ষ নেতৃত্বে দেখতে চান। তার দাবি, জেলা ছাত্রদলের তৃণমূল পর্যায়ে অর্ঘ্যের গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে এবং সংগঠনের এই সময়ে তার নেতৃত্ব প্রয়োজন।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় অর্ঘ্য রাজনৈতিকভাবে নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন এবং তাদের সংগঠন করতে সাহস জুগিয়েছেন। এছাড়া জেলা ছাত্রদলের বিভিন্ন কর্মসূচি সফল করতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অর্ঘ্য ও পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক তুহিনুর রহমান তুহিনের একটি ছবি ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। ছবিটিতে তাদের মাথায় যুবলীগের নামসংবলিত কাপড় বাঁধা দেখা যায়। তবে প্রতিবেদকের অনুসন্ধানে জানা যায়, ছবিটি এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে সম্পাদিত। মূল ছবিতে কোনো রাজনৈতিক দলের নামসংবলিত কাপড় ছিল না।
এ বিষয়ে জে এম দুদায়েভ মাসুদ খান অর্ঘ্য বলেন, “ছবিটি এআই এডিটের মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে। যেকোনো সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ বুঝতে পারবে এটি সম্পাদিত ছবি। তৃণমূল ছাত্রদল কর্মীদের মনে আমার প্রতি ভালোবাসা ও আমার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি পক্ষ বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করছে।”
তিনি আরও বলেন, “সাতক্ষীরার মতো মফস্বল শহরে রাজনীতির বাইরেও সবার সঙ্গে সবার সামাজিক সম্পর্ক থাকতে পারে এবং ছবি তোলাও স্বাভাবিক। কিন্তু সেই ছবিকে সম্পাদনা করে রাজনৈতিক দলের নাম যুক্ত করে বিভ্রান্তি ছড়ানো অবশ্যই অপরাজনীতির অংশ।”
নিজের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বিষয়ে অর্ঘ্য বলেন, “আমি ২০১২ সাল থেকে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। আমার পরিবারও দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে আমি সক্রিয় ছিলাম। আন্দোলনের সময় ২৪ জুলাই আমাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ১৪ দিন কারাভোগ করতে হয়েছে। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তারের পর অনেক কষ্টে জামিন পেয়েছি। আমি সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছি। জেলা বিএনপির নেতারা জানেন, আমি কতটা নিষ্ঠার সঙ্গে রাজনীতি করেছি।”
পরিবারের রাজনৈতিক ঐতিহ্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমার বাবা খান এ মির্জা মাসুদ জুয়েল এরশাদবিরোধী আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সূর্যসেন হল ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এছাড়া জেলা কৃষক দল ও মৎস্যজীবী দলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। আমার মা তাঁতি দলের যুগ্ম আহ্বায়ক। পুরো পরিবার বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। পারিবারিক আদর্শ থেকেই আমি বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছি। আমি আশা করি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আমার ও আমার পরিবারের ত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন করবে।”




















