সারাদেশ

শিশু রাকা হত্যার রোমহর্ষক বর্ণনা দিলেন আসামি

  প্রতিনিধি ১৫ জুন ২০২৬ , ৯:৩৮:১১ প্রিন্ট সংস্করণ

বগুড়ার আদমদীঘির সান্তাহারে শিশু রাকা হত্যার ঘটনায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যা এবং তার নিথর দেহ বস্তায় ভরে লুকিয়ে রাখাসহ আসামির নৃশংসতার কাহিনি উঠে এসেছে।

জবানবন্দিতে আসামি বন্যা বেগম বলেন, সান্তাহার পৌর এলাকার সাহেবপাড়ায় তার বাড়িতে মুরগির একটি ছোট সেড রয়েছে। সেখানে রাকা যখন মুরগি দেখছিল, তখন পেছন থেকে কাপড়ের রশি দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। এবং তিনি নিজেই রাকাকে হত্যা করেছেন। পরে তার মরদেহ একটি প্লাস্টিক বস্তায় ভরে কাগজপত্র দিয়ে ঢেকে শয়ন কক্ষের পাশে লুকিয়ে রাখেন।

গত শনিবার বগুড়ায় আদমদীঘি সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতের বিচারকের কাছে এই স্বীকারোক্তি দেন তিনি। পরে তার দেওয়া জবানবন্দি রেকর্ড করে কারাগারে পাঠান বিচারক।

আদমদীঘি থানার ওসি কামরুজ্জামান মিয়া বলেন, নিহত শিশু রাকার পরিবারের সঙ্গে আগে থেকেই নানা বিষয় নিয়ে বন্যা বেগমের পরিবারের বিরোধ চলছিল। তারপরও সাড়ে ৬ বছর বয়সী রাকা আসামি বন্যা বেগমের বাড়িতে যেত ও তার মেয়ে ফাতেমার (১২) সঙ্গে খেলাধুলা করতো। একপর্যায়ে রাকাকে কয়েকদিন আগে মারধর করে ফাতেমা। মার খেয়ে রাকা বাসায় গিয়ে তার দাদিকে বিষযটি বললে তিনি ক্ষিপ্ত হন। এরপর তার দাদিও ফাতেমাকে মারধর করেন। কিন্তু বিষয়টি সহজভাবে মেনে নিতে পারেননি ফাতেমার মা বন্যা বেগম ও তার পরিবার। তারা পাল্টা প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করেন। এর মধ্যে গত ১১ জুন বিকেলে শিশু রাকাকে ডেকে নিয়ে হত্যা করেন বন্যা বেগম ও তার পরিবার।

ওসি আরও বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এজাহারনামীয় ৪ আসামিকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে বন্যা বেগমের স্বামী আমজাদ হোসেনও রয়েছে। নিহত রাকা সান্তাহার পৌর এলাকার সাহেবপাড়ার অটোরিকশা গ্যারেজ মিস্ত্রী রায়হান আলীর মেয়ে।

তিনি আরও বলেন, রাকার স্বর্ণের দুটি কানের দুলও খুলে নেওয়া হয়। এ বিষয়েও জোড়ালো তদন্ত চলছে। এ হত্যার ঘটনায় আদমদীঘি থানায় নিহত রাকার বাবা সান্তাহার সাহেব পাড়ার রায়হান আলী বাদী হয়ে প্রতিবেশী আমজাদ হোসেন ও তার স্ত্রী বন্যা বেগম এবং বাবু হোসেনসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেন। এরই মধ্যে ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রতিবেশী আমজাদ হোসেন, তার স্ত্রী বন্যা বেগম ও বাবু হোসেন ও তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

আরও খবর

Sponsered content