প্রচ্ছদ

আসন পুনর্বিন্যাসের প্রতিবাদে নির্বাচন কমিশনে আপত্তিপত্র ও মানববন্ধন

  প্রতিনিধি ১ আগস্ট ২০২৫ , ২:২৬:১৫ প্রিন্ট সংস্করণ

শাহনেওয়াজ শাহ্, বিজয়নগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার তিনটি ইউনিয়নকে ভিন্ন আসনে যুক্ত করার খসড়া সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে লিখিত আপত্তি জানিয়েছেন স্থানীয় জনগণের প্রতিনিধিরা। একই সঙ্গে মঙ্গলবার (৩১ জুলাই ২০২৫) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন ‘বিজয়নগরবাসী’ ব্যানারে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

আপত্তিপত্রে কী বলা হয়েছে?

নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া লিখিত আপত্তিপত্রে উল্লেখ করা হয়, সদ্য প্রকাশিত খসড়া তালিকায় বিজয়নগরের চান্দুরা, হরষপুর ও বুধন্তী ইউনিয়নকে কেটে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনে যুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে উপজেলার বাকি সাতটি ইউনিয়ন রাখা হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর-বিজয়নগর) আসনে।

প্রতিনিধিরা দাবি করেন, “বিজয়নগরের দশটি ইউনিয়ন ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও প্রশাসনিকভাবে একটি অবিচ্ছিন্ন ইউনিট। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, উন্নয়ন ও যোগাযোগ অবকাঠামো এই সংযুক্তির ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। তিনটি ইউনিয়নকে আলাদা করলে জনগণ বঞ্চিত হবে তাদের সাংবিধানিক অধিকার থেকে।”

দাবি কী?

তারা দাবি জানান, বিজয়নগরের সব ইউনিয়নকে একত্রে রেখে পূর্বের ন্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনে বহাল রাখতে হবে, অথবা বিজয়নগরকে পূর্ণাঙ্গ পৃথক একটি সংসদীয় আসন হিসেবে ঘোষণা দিতে হবে।

মানববন্ধনে জনসম্পৃক্ততা

মানববন্ধনে অংশ নেন বিজয়নগরের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। তাঁদের হাতে থাকা ব্যানারে লেখা ছিল, “বিজয়নগরের ৩টি ইউনিয়নকে অবিচ্ছিন্ন রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনে রাখার দাবি জানাচ্ছি।”

বক্তারা বলেন, “বিজয়নগরকে ভেঙে ফেলার ষড়যন্ত্র আমরা দল-মত-নির্বিশেষে প্রতিহত করব। বিজয়নগরবাসী ঐক্যবদ্ধ হয়ে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করবে—ইন শা আল্লাহ।”

স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে যারা ছিলেন:

সাধারণ জনগণের পক্ষে আপত্তিপত্রে স্বাক্ষর করেন প্রকৌশলী মোহাম্মদ আমিনুল হক চৌধুরী, মোহাম্মদ আতাউল্লাহ, মো. জহিরুল ইসলাম, শেখ গোলাম মোস্তফা সুমন, এ.কে.এম গোলাম মূহীত ওসমানি, মোজাহিদুজ্জামান চৌধুরী ও মো. বায়েজিদ মিয়াসহ অনেকেই।

প্রেক্ষাপট:

জাতীয় সংসদের ৪০টি আসনের সীমানা পুনর্বিন্যাস করে নির্বাচন কমিশন সম্প্রতি একটি খসড়া তালিকা প্রকাশ করেছে। এই তালিকার বিরুদ্ধে আপত্তি ও প্রস্তাব জমা দেওয়ার সময়সীমা ১০ আগস্ট পর্যন্ত নির্ধারিত রয়েছে। পরে শুনানি শেষে চূড়ান্ত সীমানা নির্ধারণ করা হবে।

বিজয়নগরবাসী মনে করছেন, খসড়া তালিকায় তাদের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐক্যকে উপেক্ষা করা হয়েছে, যা স্থানীয় জনগণের স্বার্থের পরিপন্থী।

আরও খবর

Sponsered content