প্রচ্ছদ

দলীয় পদ ব্যবহার করে ক্ষমতার অপব্যবহারে শিমুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতির বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়

  এম. আমিরুল ইসলাম জীবন স্টাফ রিপোর্টার ২২ জুলাই ২০২৫ , ১:২৬:৪৩ প্রিন্ট সংস্করণ

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার ৩নং শিমুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. শাহাজান আলীর বিরুদ্ধে আদালতের আদেশ অবমাননা, বিভ্রান্তিকর সংবাদ সম্মেলন, এবং প্রশাসনের নাম ব্যবহার করে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়ভাবে বেপরোয়া আচরণ এবং সত্য প্রকাশে বাধা প্রদানের কারণে জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

❖ সংবাদ সম্মেলন ঘিরে বিভ্রান্তি

সম্প্রতি ঝিকরগাছা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে শাহাজান আলী দাবি করেন, “উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।” অথচ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ভুপালী সরকার এই বক্তব্যকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তথ্য অধিকার আইনে আবেদনের উত্তরে ইউএনও স্পষ্ট করে জানান, “কোনো ধরনের লিখিত বা মৌখিক নির্দেশ দেওয়া হয়নি, শুধু চলমান মামলার তথ্য জানানো হয়েছে।”

❖ তথ্য বদল ও সংবাদ সম্মেলনের কপিতে হেরফের

প্রেসক্লাবে প্রদত্ত বক্তব্যের কপিতে পরবর্তীতে পরিবর্তন করে লেখা হয়: “তখন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর মাধ্যমে জানতে পারি মামলা চলমান।” এতে প্রশ্ন উঠেছে—প্রথম বক্তব্যটি তাহলে ছিল কি মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত?

❖ আদালতের রায় অগ্রাহ্য করে দলীয় পদ ব্যবহার

তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, উত্তর রাজাপুর গ্রামের একটি জমি নিয়ে আদালতের রায় ও স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা বর্তমান রয়েছে। সোহরাব হোসেন গং পক্ষে আদালতের রায় বহাল থাকলেও, তৃতীয় পক্ষ হিসেবে বিএনপি নেতা শাহাজান আলী ওই জমিতে নিজের স্বার্থে হস্তক্ষেপ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি স্পষ্টতই আদালত অবমাননার শামিল, বলে মনে করেন আইনজীবী মহল।

❖ সংবাদকর্মী ও সাধারণ মানুষের ওপর চাপ

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, সাবেক ছাত্রদল নেতা আনিসুর রহমান মিলনসহ শাহাজান আলীর অনুসারীরা এলাকাজুড়ে ত্রাস সৃষ্টি করে রেখেছে। সাংবাদিকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং সাধারণ মানুষকে মুখ বন্ধ রাখতে বাধ্য করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

❖ ভুক্তভোগী পরিবার ও প্রশাসনের বক্তব্য

ভুক্তভোগী শহিদুল ইসলাম পল্লব জানান, “সরকার পক্ষ থেকে মামলার আপিল খারিজ হয়েছে। আদালত রায় বহাল রেখে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এরপরও রাজনৈতিক পরিচয়ে জমি দখলের অপচেষ্টা চলছে।”

ইউএনও ভুপালী সরকার বলেন, “কোনো নির্দেশ দেইনি। মামলার বিষয়টি জানিয়েছি মাত্র। তাদের সংবাদ সম্মেলনের ভাষা সঠিক ছিল না, পরে সংশোধন করেছে বলে দাবি করে।”

❖ বিএনপির অবস্থান ও সতর্কতা

উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাবিরা নাজমুল মুন্নী বলেন, “মামলার রায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা অপেক্ষা করবো। কেউ যদি দলের নাম ব্যবহার করে অবৈধ কাজে লিপ্ত থাকে, সংবাদকর্মীরা তথ্যসহ রিপোর্ট প্রকাশ করতে পারেন। দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হয় এমন কর্মকাণ্ড মেনে নেওয়া হবে না।”

❖ সচেতন মহলের দাবি

এলাকাবাসী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, “দলীয় পদ-পদবী ব্যবহার করে আদালত ও প্রশাসনকে বিভ্রান্ত করা শুধু নীতিভ্রষ্ট নয়, এটি রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলার জন্য হুমকি। এমন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দলীয় ও প্রশাসনিক তদন্ত হওয়া জরুরি।”


রাজনৈতিক সুবিধা অর্জনের লক্ষ্যে প্রশাসনের নাম ব্যবহার, বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন এবং আদালতের আদেশ উপেক্ষার মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি বন্ধে প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।

আরও খবর

Sponsered content