রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি: ৮ নভেম্বর ২০২৫ , ২:৪১:১৩ প্রিন্ট সংস্করণ
“আমার সন্তানদের দেখে রেখো, আমি সত্যি তোমাকে অনেক ভালোবাসতাম। আমি অপরাধী বটে, কিন্তু তুমি যে অপবাদ দিয়েছো—আমি নাকি চরিত্রহীন, বিশ্বাস কর আল্লাহর কসম করে বলছি, আমি তোমাকে ছাড়া আর কোনো নারীকে স্পর্শ করিনি।” — এভাবেই শেষ বাণী রেখে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন তরিকুল ইসলাম (৩৫) নামের এক যুবক।
শুক্রবার (৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল পৌরশহরের শান্তিপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত তরিকুল সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার দত্তবাড়ি এলাকার দুলাল হোসেনের ছেলে। তিনি ওষুধ কোম্পানি ড্রাগ ইন্টারন্যাশনালে চাকরি করতেন এবং চাকরিসূত্রে স্ত্রীসহ শান্তিপুরে ভাড়া বাসায় থাকতেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তরিকুল ও তার স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দাম্পত্য কলহ চলছিল। স্ত্রীর সন্দেহ ও পারিবারিক অশান্তির কারণে প্রায়ই তাদের মধ্যে ঝগড়া হতো। ঘটনার দিন বিকেলে তুমুল বাকবিতণ্ডার পর তরিকুল নিজের ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন। দীর্ঘক্ষণ দরজা না খোলায় স্ত্রী ও প্রতিবেশীরা ভেতরে ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া পাননি। পরে দরজা ভেঙে দেখা যায়, ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে তিনি ঝুলে আছেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। এ সময় তরিকুলের প্যান্টের পকেট থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করা হয়। সেখানে তিনি লেখেন—
“আমি অপরাধী বটে, কিন্তু তুমি যে অপবাদ দিয়েছো—আমি নাকি চরিত্রহীন, তা আমি মেনে নিতে পারিনি। আল্লাহর কসম করে বলছি, তুমি ছাড়া আমি আর কোনো নারীকে স্পর্শ করিনি। মৃত্যুর আগে কেউ মিথ্যা কথা বলে না। আমার সন্তানদের দেখে রেখো, সত্যিই আমি তোমাকে খুব ভালোবাসতাম।”
ঘটনার পর তরিকুলের স্ত্রী আশা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “এটা সে কী কাজ করল! এর আগে তাকে জুতো দিয়ে মেরেছি, তবুও এমন কাজ করেনি। আজ তো শুধু ঝগড়া করেছি, এজন্য সে এমনটা করবে ভাবিনি।”
রাণীশংকৈল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরশেদুল হক বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে। প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঠাকুরগাঁও জেলা মর্গে পাঠানো হয়েছে।”





















