প্রতিনিধি ১৬ জুন ২০২৬ , ১:৩২:০৬ প্রিন্ট সংস্করণ
রাতে ঘুম ভেঙে যাওয়ার পর হঠাৎ করে দুশ্চিন্তা বা চিন্তার চাপ বেড়ে যাওয়ার ঘটনা অনেকের ক্ষেত্রেই দেখা যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে রয়েছে একাধিক মানসিক, স্নায়বিক এবং জীবনযাপনজনিত কারণ।
চিকিৎসকদের মতে, রাতের সময় পরিবেশ তুলনামূলকভাবে শান্ত থাকে এবং চারপাশে মনোযোগ সরানোর মতো উপাদান কম থাকে। ফলে ঘুম হালকা হয়ে গেলে মস্তিষ্ক সহজেই অসমাপ্ত কাজ, আর্থিক চাপ বা ব্যক্তিগত উদ্বেগের দিকে মনোযোগ দিতে শুরু করে। ঘুমের আরইএম পর্যায়ে মস্তিষ্কের আবেগ নিয়ন্ত্রণকারী অংশ সক্রিয় থাকলেও যুক্তি ও সমস্যা সমাধানের অংশ তুলনামূলকভাবে কম কাজ করে, যার ফলে চিন্তাগুলো বাস্তবের চেয়ে বেশি গুরুতর মনে হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা আরও জানিয়েছেন, উদ্বেগজনিত সমস্যা, বিষণ্নতা, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ বা বার্নআউট থাকলে এই ধরনের অভিজ্ঞতা আরও বেশি হতে পারে। কারও ক্ষেত্রে ঘুম ভেঙে দ্রুত আবার ঘুম চলে আসে, আবার কারও ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় জেগে থাকার প্রবণতা দেখা দেয়, যা মূলত মানসিক স্থিতি ও উদ্দীপনার মাত্রার ওপর নির্ভর করে।
চিকিৎসকদের মতে, বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে ঘুমের গুণগত মানেও পরিবর্তন আসে। গভীর ঘুমের পরিমাণ কমে গেলে রাতে ঘুম ভেঙে যাওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়। পাশাপাশি অনিয়মিত জীবনযাপন, শিফট ডিউটি বা জৈবিক ঘড়ির ব্যাঘাতও ঘুমে সমস্যা তৈরি করতে পারে।
খাদ্যাভ্যাসও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দেরিতে বা ভারী খাবার খেলে হজমজনিত অস্বস্তি, অ্যাসিডিটি বা পেট ফাঁপার কারণে ঘুমে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। আবার খুব আগেভাগে খাবার খেলে মাঝরাতে ক্ষুধা লেগে ঘুম ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনাও থাকে। অতিরিক্ত ক্যাফেইন বা অ্যালকোহল সেবনও ঘুমের স্বাভাবিক চক্র নষ্ট করতে পারে।
এ ছাড়া পর্যাপ্ত পানি না খাওয়া, ঘরের অতিরিক্ত গরম বা আর্দ্র পরিবেশ, শব্দ, অস্বস্তিকর বিছানা কিংবা বাতাস চলাচলের ঘাটতিও ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায় বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
চিকিৎসকরা বলেন, মাঝেমধ্যে ঘুম ভেঙে যাওয়া স্বাভাবিক হলেও দীর্ঘদিন ধরে যদি ঘুম ধরে রাখতে সমস্যা হয়, তবে তা ‘মেইনটেনেন্স ইনসমনিয়া’ হতে পারে এবং চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে।
স্ক্রিন টাইম, দেরিতে খাওয়া এবং অ্যালকোহল সেবনের বিষয়টিও ঘুমের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে রাতে অ্যালকোহল গ্রহণ প্রথম দিকে ঘুম পেতে সাহায্য করলেও পরে শরীর তা প্রক্রিয়াজাত করার সময় ঘুম ভেঙে যেতে পারে। একইভাবে অতিরিক্ত মিষ্টি বা ভারী খাবার রক্তে শর্করার ওঠানামা ঘটিয়ে ঘুমে বিঘ্ন ঘটাতে পারে। মোবাইল বা ট্যাবের নীল আলোও মস্তিষ্ককে সক্রিয় রেখে ঘুমের স্বাভাবিক সংকেতকে বাধাগ্রস্ত করে।
ভালো ঘুমের জন্য বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি অভ্যাসের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। ঘুমের অন্তত এক থেকে দুই ঘণ্টা আগে স্ক্রিন থেকে দূরে থাকা, হালকা আলোতে বই পড়া বা শান্ত পরিবেশে থাকা, এবং ঘুমের আগে ভারী খাবার এড়িয়ে চলা গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি রাতের বেলা ঘুম ভেঙে গেলে ফোন ব্যবহার না করে কিছু সময় শান্তভাবে শুয়ে থাকা বা ধীরে শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, জীবনযাত্রায় ছোট পরিবর্তনই ঘুমের মান উন্নত করতে পারে। তবে সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত এবং নিজে থেকে ওষুধ গ্রহণ করা এড়িয়ে চলতে হবে।














