আন্তর্জাতিক

এবার ৭.২ মাত্রার ভূমিকম্পে কাঁপল জাপান

  প্রতিনিধি ২৫ জুন ২০২৬ , ১০:২১:২৩ প্রিন্ট সংস্করণ

জাপানের উত্তরাঞ্চলীয় উপকূলে বৃহস্পতিবার শক্তিশালী একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। তবে দেশটির আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, এ ভূমিকম্পের কারণে সুনামির কোনো ঝুঁকি নেই।

জাপান আবহাওয়া সংস্থা (জেএমএ) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ২। এটি মূল হনশু দ্বীপের ইওয়াতে প্রদেশের পূর্ব উপকূলের কাছে আঘাত হানে। প্রাথমিকভাবে ভূমিকম্পের মাত্রা ৬ দশমিক ৯ বলা হলেও পরে তা বাড়িয়ে ৭ দশমিক ২ নির্ধারণ করা হয়।

সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূ-পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার (৩০ মাইল) গভীরে।

এদিকে, মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) একই ভূমিকম্পের মাত্রা ৬ দশমিক ৯ বলে জানিয়েছে।

জানা গেছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যে অঞ্চলে বারবার শক্তিশালী ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটেছে, বৃহস্পতিবারের ভূমিকম্পটিও সেই এলাকাতেই আঘাত হানে। গত ডিসেম্বরে ওই অঞ্চলের একটি ভূমিকম্পের পর এক সপ্তাহব্যাপী ‘মেগা-ভূমিকম্প’ সতর্কতা জারি করা হয়েছিল।

বৃহস্পতিবার সকালে অফিসগামী ব্যস্ত সময়ের মধ্যে জাপানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আঘাত হানা এ ভূমিকম্পের কম্পন রাজধানী টোকিওতেও অনুভূত হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন দেশটির শীর্ষ সরকারি মুখপাত্র মিনোরু কিহারা।

টোকিওতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বলেন, সরকারের জরুরি সাড়া-প্রদানকারী দল পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজন হলে উদ্ধার তৎপরতার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দাদের সম্ভাব্য পরাঘাত (আফটারশক) সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

আওমোরি প্রিফেকচারের হাশিকামি শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তোমোকো নাগানে জাপানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকেকে জানান, তিনি গাড়ি চালানোর সময় ভূমিকম্পের সতর্কবার্তা পান এবং মাঝারি মাত্রার দুলুনি অনুভব করেন। বিদ্যালয়ে থাকা শিক্ষার্থীরা নিরাপদ থাকলেও অনেক শিশু আতঙ্কে কেঁদে ফেলেছিল। পরে দিনের সব ক্লাস বাতিল করা হয় এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপদে বাড়ি পাঠানো হয়।

জাপানের সরকারি টেলিভিশন এনএইচকের প্রতিবেদনে সেন্দাই ও মোরিওকাসহ সবচেয়ে বেশি কাঁপন অনুভূত হওয়া কয়েকটি শহরের সাংবাদিকদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, কয়েক মিনিট ধরে কম্পন অনুভূত হলেও তারা কোনো দৃশ্যমান ক্ষয়ক্ষতি দেখতে পাননি। টেলিভিশনের ফুটেজে স্বাভাবিকভাবে মানুষের যাতায়াতও দেখা গেছে।

আরও খবর

Sponsered content