প্রতিনিধি ২৮ জুন ২০২৬ , ১০:৩৭:৪৪ প্রিন্ট সংস্করণ
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রতিষ্ঠার দেড় বছরের মাথায় তাদের সাংগঠনিক কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে। দলটি যখন আত্মপ্রকাশ করেছিল, তখন তাদের ঘোষিত সাংগঠনিক গঠনটি ছিল কিছুটা অপ্রচলিত। এখন সেই অপ্রচলিত কাঠামো থেকে সরে এসে একটি প্রচলিত কাঠামোয় ফেরার উদ্যোগ নিয়েছে দলটি। এনসিপির নেতাদের ভাষ্যমতে, সাংগঠনিক গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং কাজের সুবিধার্থে এই দল পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহেই এনসিপির কেন্দ্রীয় পর্যায়ে এই বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। এই পুনর্গঠিত কমিটি আগামী ছয় মাসের মতো দায়িত্ব পালন করবে। দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একটি সূত্রের খবর অনুযায়ী, এই ছয় মাস দায়িত্ব পালনের পর আগামী বছরের শুরুর দিকে দলটির প্রথম জাতীয় কাউন্সিল বা সম্মেলন আয়োজনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
এনসিপির বর্তমান সাংগঠনিক কাঠামোটি ‘সুপার ইলেভেন’ হিসেবে পরিচিত। এই ১১টি পদের মধ্যে রয়েছে আহ্বায়ক, সদস্যসচিব, একজন মুখ্য সমন্বয়ক, দুইজন মুখ্য সংগঠক, একজন মুখপাত্র, দুইজন জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক, দুইজন জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব এবং একজন জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক। তবে নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই ‘সুপার ইলেভেন’ কাঠামোটি বিলুপ্ত করে তার পরিবর্তে ছয়জন শীর্ষ নেতা নিয়ে ‘সুপার সিক্স’ গঠন করা হবে।
এনসিপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম ‘রাজনৈতিক পর্ষদ’-এর তিন সদস্যের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে যে, পরিবর্তিত কাঠামোয় শীর্ষ ছয়টি পদ হবে আহ্বায়ক, সদস্যসচিব, দুইজন জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক এবং দুইজন জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব। বর্তমান আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং সদস্যসচিব আখতার হোসেন তাদের নিজ নিজ পদে বহাল থাকছেন। জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও হাসনাত আবদুল্লাহর নাম শোনা যাচ্ছে। এছাড়া সারজিস আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পেতে পারেন।
রাজনৈতিক পর্ষদের ওই সদস্যরা আরও জানান, এই ছয়জনই মূলত রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য। সূত্র বলছে, পর্ষদের বাকি ১২ জন সদস্যকে দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও যুগ্ম সদস্যসচিব পদে দেখা যাবে। পর্ষদের প্রত্যেক সদস্যকে আলাদা বিষয়ভিত্তিক দায়িত্ব দেওয়া হবে, যার মধ্যে জোট রাজনীতি, সাংগঠনিক কার্যক্রম, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা রক্ষা এবং দপ্তর সামলানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো থাকবে।
পাশাপাশি কিছু সদস্য দলের পেশাজীবী সংগঠন ও ছাত্রসংগঠন দেখভালের দায়িত্ব পাবেন, আবার কারও হাতে থাকবে দলের কর্মসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের মূল কাজ। কাকে কোন দায়িত্ব বণ্টন করা হবে তা নিয়ে বর্তমানে দলে আলোচনা চলছে। একই সাথে এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটিতে সম্পাদকীয় ও সহ-সম্পাদকীয় নতুন কিছু পদ তৈরির বিষয় নিয়েও আলোচনা চলছে বলে দলের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।
দলটির শীর্ষ পর্যায়ের এক নেতার মতে, বর্তমান কাঠামোতে কাজ করতে গিয়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজের জটিলতা তৈরি হচ্ছিল, যাকে অনেকে ‘আমলাতান্ত্রিক জটিলতা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে এই জটিলতা দূর করে সাংগঠনিক কার্যক্রমে গতি ফেরাতেই কাঠামো পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যদিও এসব বিষয় নিয়ে এখনো দলীয় ফোরামে আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি, তবে রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য সারোয়ার তুষার জানিয়েছেন, জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহেই নতুন এই কাঠামো চূড়ান্ত হয়ে যাবে। তিনি আরও বলেন, আগামী জাতীয় কাউন্সিল পর্যন্ত পুনর্গঠিত এই কমিটিই দলের মূল দায়িত্ব পালন করবে।




















