আন্তর্জাতিক

ব্রেক্সিট গণভোটে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ ছিল, দাবি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর

  প্রতিনিধি ১২ অক্টোবর ২০২৬ , ১:৩০:৪৭ প্রিন্ট সংস্করণ

২০১৬ সালে যুক্তরাজ্যের ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পক্ষে অনুষ্ঠিত ব্রেক্সিট গণভোটে রাশিয়া হস্তক্ষেপ করেছিল বলে দাবি করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম। একই ধরনের অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা ফ্রান্স ও জার্মানির রাজনীতিতেও ছড়ানো হচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন তিনি। সোমবার ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

‘দ্য রেস্ট ইজ পলিটিকস’ পডকাস্টে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বার্নহাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি ২০১৬ সালের গণভোটে রাশিয়ার সম্ভাব্য হস্তক্ষেপের বিষয়ে জানতে চেয়েছিলেন। তাকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছিল, হ্যাঁ, এমন হস্তক্ষেপ হয়েছিল।

তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, এ বিষয়ে আমরা অনেক বেশি রক্ষণাত্মক অবস্থানে থেকেছি। বিদেশ থেকে রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করার যেসব চেষ্টা চলছে, সেগুলোর মাত্রা সম্পর্কে মানুষকে যথেষ্ট তথ্য জানানো হয়নি।’

তবে ব্রেক্সিট গণভোটে মস্কো কী ধরনের কর্মকাণ্ড চালিয়েছিল কিংবা তার ব্যাপ্তি কতটা ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেননি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী।

বার্নহামের এ বক্তব্যের সমালোচনা করেছে ব্রেক্সিটপন্থী প্রচারগোষ্ঠী ‘ব্রিটেন আনবাউন্ড’। সংগঠনটি বলেছে, ২০১৬ সালে ব্রিটিশ জনগণের নেওয়া সিদ্ধান্তের বৈধতা খর্ব করার এটি আরেকটি অমার্জিত প্রচেষ্টা।

সংগঠনটি আরও বলেছে, যুক্তরাজ্যের নির্বাচনে বিদেশি হস্তক্ষেপ অবশ্যই অগ্রহণযোগ্য। তবে ২০১৬ সালের গণভোটের ফলাফল রাশিয়ার হস্তক্ষেপে প্রভাবিত হয়েছিল এমন বিশ্বাসের পক্ষে যথেষ্ট কারণ নেই। ভোটাররা এত সহজে বিভ্রান্ত হয়েছিলেন, এমন ইঙ্গিত দেওয়াও তাদের জন্য অপমানজনক।

সাক্ষাৎকারে বার্নহাম জানান, চলতি সপ্তাহের শুরুতে জার্মানি সফরের সময় দেশটির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎসের সঙ্গে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন তিনি।

বার্নহাম বলেন, ‘রাশিয়া থেকে জার্মানির রাজনীতিতে অবশ্যই ভুল তথ্য ও অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, এসব বিষয় এখন স্পষ্টভাবে নথিভুক্ত করা জরুরি। এতে জার্মানি ও ফ্রান্সের ভোটাররা বুঝতে পারবেন, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কিছু অংশ তাদের প্রতিপক্ষ বিশেষ করে রাশিয়া উসকে দিচ্ছে।

ব্রেক্সিট গণভোটে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের অভিযোগ নিয়ে কোনো ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর এ ধরনের স্পষ্ট বক্তব্য এটিই প্রথম। তবে যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারে ক্রেমলিনের প্রচেষ্টা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে।

২০২০ সালে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের গোয়েন্দা ও নিরাপত্তাবিষয়ক কমিটি দেশটির নির্বাচন ও গণভোটে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

প্রতিবেদনটিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে যাওয়ার প্রশ্নে অনুষ্ঠিত গণভোটের ফলাফল প্রভাবিত করতে রাশিয়া চেষ্টা করেছিল কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি। তবে সম্ভাব্য হুমকি যথাযথভাবে মূল্যায়ন ও মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হওয়ায় পরপর কয়েকটি সরকারের সমালোচনা করা হয়েছিল।

প্রতিবেদনটি প্রত্যাখ্যান করে রাশিয়ার তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে ‘রুশবিদ্বেষ’ বলে অভিহিত করেন। ক্রেমলিনের একজন মুখপাত্রও অন্য দেশের নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ অস্বীকার করেন।

তবে একই বছর যুক্তরাজ্যের তৎকালীন কনজারভেটিভ সরকার বলেছিল, ২০১৯ সালের সাধারণ নির্বাচনে রাশিয়ার সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো হস্তক্ষেপের চেষ্টা করেছিল বলে ‘প্রায় নিশ্চিত’ হওয়ার মতো ভিত্তি রয়েছে।

চলতি বছরের শুরুর দিকে যুক্তরাজ্যের নির্বাচন কমিশনের প্রধান বিজয় রঙ্গরাজন আইনপ্রণেতাদের জানিয়েছিলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নির্বাচনে রাশিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ডিপফেক ভিডিও ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। যুক্তরাজ্য এর ব্যতিক্রম হবে এমনটা ধরে নেওয়ার কোনো কারণ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

গত মাসে জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে বার্নহাম অভিযোগ করেন, রাশিয়ার বিভিন্ন সংস্থা মানুষের মধ্যে মিথ্যা তথ্য ও অপতথ্য ছড়াতে এবং তাদের ভয়কে কাজে লাগাতে সম্ভাব্য সব উপায় ব্যবহার করছে।

এ ধরনের প্রচারণা মোকাবিলায় ‘বিষাক্ত অপতথ্যের জোয়ার’ ঠেকাতে একটি নতুন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার ঘোষণাও দেন তিনি।

ডাউনিং স্ট্রিটের এক মুখপাত্র বলেছেন, বিদেশি শক্তি ও তাদের সহযোগীদের জীবন বিপন্ন করা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ দুর্বল করার প্রচেষ্টা থেকে নাগরিক ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুরক্ষিত রাখাই সরকারের লক্ষ্য।

এ জন্য জাতীয় নিরাপত্তা আইনের আওতায় সরকারের ক্ষমতা বৃদ্ধি, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর সক্ষমতা জোরদার, সীমান্ত নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

আরও খবর

Sponsered content