সাতক্ষীরা প্রতিনিধিঃ ২৮ অক্টোবর ২০২৬ , ১:১৯:৪০ প্রিন্ট সংস্করণ
সাতক্ষীরায় সহকারী পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কামাল হোসেন ও পরিবার কল্যাণ সহকারী জান্নাতুল ফেরদৌসকে প্রশাসনিক কারণে দেশের দুই প্রান্তে বদলি করা হয়েছে। তবে বদলির আদেশ জারির পরও তাঁরা নতুন কর্মস্থলে যোগ দেননি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এ ঘটনায় তদবিরের অভিযোগও তুলেছেন কামাল হোসেনের স্ত্রী নিলুফা ইয়াসমিন।
নিলুফার অভিযোগ, স্বামীর একাধিক নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক এবং তাঁর ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদ জানিয়ে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর এ বদলির আদেশ জারি হয়। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, কলারোয়া উপজেলার কোঠাবাড়ি গ্রামের মৃত শের আলীর ছেলে কামাল হোসেনের সঙ্গে প্রায় ১২ বছর আগে কুষ্টিয়ার নিলুফা ইয়াসমিনের বিয়ে হয়। তাঁদের দুটি সন্তান রয়েছে, যাদের বয়স ৯ ও ৪ বছর। নিলুফার দাবি, চাকরিতে যোগদানের পর থেকেই কামাল হোসেন একাধিক সহকর্মী ও অধীনস্থ নারী কর্মীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান। সর্বশেষ ধুলিহর ইউনিয়নের পরিবার কল্যাণ সহকারী জান্নাতুল ফেরদৌসের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে দুই সন্তানসহ তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। এরপর প্রায় এক বছর ধরে তিনি কুষ্টিয়ায় বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন।
নিলুফা ইয়াসমিনের ভাষ্য, সন্তান ও সংসারের খোঁজখবর না নেওয়া এবং কথিত সম্পর্ক অব্যাহত রাখার অভিযোগে গত ১৪ অক্টোবর পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও পরিচালক (প্রশাসন) বরাবর তথ্য-প্রমাণসহ লিখিত অভিযোগ দেন তিনি।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ওই দিনই পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) মোসাঃ মাহফুজা খানম ও উপপরিচালক (পার্সোনেল) এরশাদ আহমেদ নোমানীর স্বাক্ষরে পৃথক দুটি বদলির আদেশ জারি হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আদেশ অনুযায়ী, কামাল হোসেনকে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলায় এবং জান্নাতুল ফেরদৌসকে বরগুনার আমতলী উপজেলার আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নে বদলি করা হয়। আদেশে ১৫ অক্টোবরের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশনা ছিল বলে জানা গেছে।
তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও তাঁরা নতুন কর্মস্থলে যোগ দেননি বলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো জানিয়েছে।
নিলুফা ইয়াসমিন আরও অভিযোগ করেন, সাতক্ষীরা জেলা পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সাইদুর রহমানসহ একটি প্রভাবশালী চক্র অর্থের বিনিময়ে বদলির আদেশ বাতিলের আশ্বাস দিয়েছে। তাঁর দাবি, কামাল হোসেন আদেশ বাতিলের জন্য তদবির চালাচ্ছেন এবং অভিযোগ প্রত্যাহারে তাঁকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগও তুলেছেন নিলুফা। তাঁর দাবি, তালা উপজেলায় কর্মরত থাকাকালে কামাল হোসেন অবৈধ আয়ের মাধ্যমে সাতক্ষীরা শহরে বেনামে আবাসিক হোটেলসহ কলারোয়ায় বিপুল সম্পদ গড়ে তুলেছেন। এ ছাড়া অফিসের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে ঘুষ বাণিজ্য, নারী কর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও গালিগালাজের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা নথি পাওয়া যায়নি।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে বক্তব্য জানতে কামাল হোসেন, জান্নাতুল ফেরদৌস ও জেলা পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সাইদুর রহমানের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে সাতক্ষীরা জেলা পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক রওশনা বেগম স্ট্যান্ড রিলিজের চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, তাঁদের দায়িত্ব হস্তান্তরের জন্য ইতিমধ্যে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
কুষ্টিয়া জেলা পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আব্দুস সালাম বলেন, কামাল হোসেনের বদলির চিঠি তাঁরা পেয়েছেন, তবে তিনি এখনো যোগদান করেননি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, বরগুনার আমতলী উপজেলা সহকারী পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ইলিয়াস খান রানা জানান, জান্নাতুল ফেরদৌস এখনো তাঁদের কার্যালয়ে যোগদান করেননি।
নিলুফা ইয়াসমিন বদলির আদেশ কার্যকর এবং অভিযোগগুলোর তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।





















