সারাদেশ

কাল মধ্যরাত থেকে ফের শুরু হচ্ছে ইলিশ ধরা

  প্রতিনিধি ২৮ অক্টোবর ২০২৬ , ৫:০৭:৩৩ প্রিন্ট সংস্করণ

ইলিশের নিরাপদ প্রজননের জন্য মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা শেষ হবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে। আর এতে গত ২২ দিন অবসরে থাকা জেলেদের ইলিশ ধরার জন্য প্রস্তুতিতে সরগরম হয়ে উঠেছে চাঁদপুরের মেঘনা পাড়ের জেলে পল্লীগুলো।

সরেজমিন আজ বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চাঁদপুর সদর উপজেলার আনন্দ বাজার, টিলাবাড়ি, বড় স্টেশন, পুরান বাজার রনাগোয়াল, ইব্রাহীমপুর রামদাসদী ও বহরিয়া এলাকায় গিয়ে দেখাগেছে অধিকাংশ জেলে জাল মেরামত করছে। ইলিশ ধরার প্রস্তুতি হিসেবে নৌকা মেরামত করছে জেলে এবং মিস্ত্রিরা।

আনন্দ বাজার এলাকার জেলে ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও মেঘনায় ইলিশের বিচরণ কম ছিল। এরপরও পাশ্ববর্তী মুন্সীগঞ্জ ও শরীয়তপুর জেলার জেলেরা প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে মা ইলিশ ধরেছে। তবে আমরা এখন প্রস্তুতি নিচ্ছি নদীতে নামার। যে কারণে জাল মেরামত করছি।’

ইব্রাহীমপুর ইউনিয়নের রামদাসদী গ্রামের জেলে ইলিয়াছ হোসেন বলেন, ‘আমরা গোল্টিজালে ইলিশ ধরি। নিষেধাজ্ঞার সময় রিকশা চালিয়ে সংসার চালিয়েছি। এখন নদীর নামার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। যদি ইলিশ পাই তাহলে সংসার ভালো চলবে, না হয় ঋণ করে চলতে হবে।’

লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের সাখুয়া গ্রামের জেলে রমজান মিজি বলেন, ‘সরকারি নিষেধাজ্ঞা প্রকৃত জেলেরা মেনে চলে। তবে এক শ্রেণির জেলে শুরু থেকে মা ইলিশ শিকার করে। প্রশাসন অভিযান চালায়, আটক করে কিন্তু বিষয়টি আরও কঠোর করা প্রয়োজন। প্রশাসন কঠোর থাকলে কেউ নদীতে নামতে পারে না।’

স্থানীয় জেলেদের দাবী, তারা ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার সময় সরকারের পক্ষ থেকে যে খাদ্য সহায়তা ২৫ কেজি চাল পান তা দিয়ে সংসার চলে না। চালের পাশাপাশি কিছু নগদ অর্থের ব্যবস্থা করলে তাদের সমস্যায় পড়তে হয় না। কারণ অনেক জেলে পরিবার ঋণ নিয়ে জাল ও নৌকায় বিনিয়োগ করেন।

চাঁদপুর নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজমগীর হোসেন বলেন, ‘ইলিশের ডিম ছাড়ার নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে নৌ পুলিশ চাঁদপুর অঞ্চলের সবগুলো ইউনিট আন্তরিকভাবে কাজ করেছেন। তারপরেও বিচ্ছিন্ন কিছু জায়গায় জেলেরা মা ইলিশ শিকার করেছে। আইন অমান্যকারী এমন প্রায় ৩০০ জেলেকে আটক করে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’

চাঁদপুর সদর উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক জানান, জেলা ও উপজেলা টাস্কফোর্স ২৪ ঘন্টা অভিযান পরিচালনা করেছে। এরপরেও কিছু জেলে নিষেধাজ্ঞা মানেনি। অধিকাংশ জেলেকে কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে। কৌশল করে শিশুদের দিয়ে মা ইলিশ শিকার করায় ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয়নি।

জেলেদের খাদ্য সহায়তা বৃদ্ধির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমিও একমত। কারণ ২৫ কেজি চাল দিয়ে সংসার চলেনা। গত বছর আমরা বৃহত্তর কুমিল্লা মৎস্য উন্নয়ন প্রকল্প থেকে জেলেদের চালের পাশাপাশি অন্যান্য খাদ্য সহায়তা দিয়েছি। এখন বরাদ্দ নেই। তবে আমরা জেলেদের বরাদ্দ বৃদ্ধির বিষয়ে আন্তরিক এবং উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে নিয়মিত জানাচ্ছি। সর্বপরি সক্ষমতার মধ্যে ২২ দিনের অভিযান সফল হয়েছে।’

আরও খবর

Sponsered content