প্রতিনিধি ৩০ অক্টোবর ২০২৬ , ১২:১১:৪৯ প্রিন্ট সংস্করণ
যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ ও পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে গোপন সামরিক ক্রয় নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অন্তত ২০০ কোটি ডলারের অস্ত্র, বিস্ফোরক, সামরিক সরঞ্জাম ও ভারী ট্রাক আমদানি করেছে ইরান। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত এসব সরঞ্জাম আমদানি করা হয়েছে বলে এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।
রয়টার্সের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নামের আদ্যক্ষর ‘এমওডি’ দিয়ে শুরু হওয়া ৫ হাজারের বেশি গোপন সংস্থা এই আমদানি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এসব সংস্থার সঙ্গে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবং দেশটির প্রভাবশালী ব্যবসায়িক গোষ্ঠীগুলোর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব সংস্থার মধ্যে এমওডি৩৪৬৪২৮ নামের একটি প্রতিষ্ঠান ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত প্রায় ২৩০ কোটি ডলারের সামরিক সরঞ্জাম আমদানি করেছে। এর মধ্যে ছিল ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন তৈরির কাঁচামাল, রকেটের জ্বালানি উপাদান, বিস্ফোরক, অস্ত্রের যন্ত্রাংশ এবং ভারী ট্রাক। চীন, রাশিয়া ও জার্মানিসহ বিভিন্ন দেশ থেকে স্থল, সমুদ্র ও আকাশপথে এসব পণ্য ইরানে আনা হয়েছে।
রয়টার্সের পর্যালোচনা করা আমদানি তথ্য অনুযায়ী, এসব লেনদেনের প্রায় ৯৭ শতাংশই সরাসরি অর্থ স্থানান্তর ছাড়াই সম্পন্ন হয়েছে। বিদেশে অবস্থানরত মধ্যস্থতাকারী ও বিভিন্ন ভুয়া প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ করে সরঞ্জাম দেশে আনা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে অবৈধভাবে বিক্রি করা তেল থেকে পাওয়া অর্থও ব্যবহার করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নেটওয়ার্ক ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎপাদন সক্ষমতা ধরে রাখা এবং যুদ্ধের মধ্যে সামরিক মজুত পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের সামরিক স্থাপনা ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনকেন্দ্রে হামলা চালালেও দেশটির আমদানি কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। মার্চে সামরিক পণ্য আমদানি কমে গেলেও মে মাসে তা আবার বেড়েছে।
রয়টার্সের অনুসন্ধানে আরও বলা হয়েছে, রাশিয়া থেকে ডেটোনেটর, চীন থেকে টাইটানিয়াম ও রকেট জ্বালানির উপাদান এবং ইউরোপীয় দেশগুলো থেকে ট্রাক ও বিমান ইঞ্জিনের যন্ত্রাংশ আমদানি করেছে ইরান। এসব পণ্যের অনেকগুলো সামরিক ও বেসামরিক উভয় ধরনের কাজে ব্যবহার করা সম্ভব।
এ বিষয়ে ইরানের সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানগুলো রয়টার্সের প্রশ্নের জবাব দেয়নি। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের অর্থনৈতিক উৎস বন্ধ করতে তারা কাজ করছে এবং নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর প্রচেষ্টা মোকাবিলায় সতর্ক রয়েছে।
রয়টার্সের এই অনুসন্ধান বলছে, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক অবরোধের মধ্যেও জটিল বৈদেশিক বাণিজ্য নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে নিজেদের অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামের সরবরাহ অব্যাহত রাখছে ইরান।









