আন্তর্জাতিক

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমে ৩৩ শতাংশে

  প্রতিনিধি ১৮ আগস্ট ২০২৬ , ১১:৪৮:৩৭ প্রিন্ট সংস্করণ

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের প্রভাব এবং যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় বড় ধরনের পতন হয়েছে। রয়টার্স/ইপসোসের সর্বশেষ জরিপে ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হিসেবে কাজের অনুমোদন নেমে এসেছে মাত্র ৩৩ শতাংশে। এটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার মেয়াদে সর্বনিম্ন।

সোমবার শেষ হওয়া চার দিনের এই জরিপে ৬৪ শতাংশ মার্কিনি ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। চলতি মাসের শুরুতে ট্রাম্পের অনুমোদনের হার ছিল ৩৫ শতাংশ। নতুন এই হার তার বর্তমান মেয়াদের সর্বনিম্ন এবং প্রথম মেয়াদে ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে পাওয়া সর্বনিম্ন ৩৩ শতাংশের সমান।

জরিপে অংশ নেওয়া মার্কিনিদের বড় একটি অংশ মনে করেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা কম। প্রায় ৮০ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পৃক্ততা দীর্ঘ সময় ধরে চলবে।

এর মধ্যে ৮৭ শতাংশ ডেমোক্র্যাট এবং ৭১ শতাংশ রিপাবলিকানও মনে করেন, সংঘাত দীর্ঘায়িত হবে। মাত্র ১৬ শতাংশ মনে করেন, যুদ্ধ কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই শেষ হয়ে যেতে পারে।

হোয়াইট হাউসে দ্বিতীয় মেয়াদে ফেরার পর চলতি বছর ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় চাপ তৈরি হয় ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান শুরু করার পর। সংঘাতের ফলে বৈশ্বিক তেল বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ বাধাগ্রস্ত হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রলের দাম বেড়েছে। এতে মার্কিন পরিবারগুলোর জীবনযাত্রার ব্যয় যেমন বেড়েছে, তেমনি নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের রিপাবলিকান দলের ওপরও রাজনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছে।

নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্প মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে না জড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। শুরুতে তিনি বলেছিলেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে। তবে ইরান প্রতিরোধ অব্যাহত রেখেছে এবং হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে তেল পরিবহন এখনও অনেকাংশে বাধাগ্রস্ত রয়েছে।

সর্বশেষ জরিপে মাত্র ২০ শতাংশ মার্কিনি মনে করেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু করা সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল। রিপাবলিকানদের মধ্যেও মাত্র অর্ধেক এ যুদ্ধকে সমর্থন করেছেন।

শুক্রবার নিউইয়র্কের গার্ডেন সিটিতে এক রাজনৈতিক সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে ইরানকে ঠেকাতে হলে জ্বালানির জন্য ‘সামান্য বেশি’ অর্থ দেওয়া যুক্তিসঙ্গত।

ইরান যুদ্ধ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি অর্থনীতি নিয়েও রিপাবলিকানদের জন্য সতর্কবার্তা এসেছে জরিপে। প্রায় এক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো অর্থনীতি পরিচালনায় রিপাবলিকানদের চেয়ে ডেমোক্র্যাটদের ওপর বেশি আস্থা দেখিয়েছেন ভোটাররা।

জরিপে ৩৮ শতাংশ ভোটার বলেছেন, অর্থনীতি পরিচালনায় ডেমোক্র্যাটরা বেশি দক্ষ। বিপরীতে রিপাবলিকানদের পক্ষে মত দিয়েছেন ৩৫ শতাংশ। জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণেও ডেমোক্র্যাটদের তুলনামূলকভাবে বেশি সক্ষম মনে করছেন ভোটাররা।

ট্রাম্পের মেয়াদজুড়ে অভিবাসন নীতিতে রিপাবলিকানদের প্রতি সমর্থন ডেমোক্র্যাটদের তুলনায় বেশি ছিল। সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ কমে যাওয়া এবং ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির কারণে এ বিষয়ে রিপাবলিকানরা দীর্ঘদিন এগিয়ে ছিল।

তবে সর্বশেষ জরিপে সেই ব্যবধানও কমে এসেছে। ৪০ শতাংশ নিবন্ধিত ভোটার বলেছেন, অভিবাসন নীতিতে রিপাবলিকানদের অবস্থান ভালো। বিপরীতে ৩৮ শতাংশ ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে মত দিয়েছেন। অর্থাৎ ব্যবধান মাত্র ২ শতাংশ পয়েন্ট, যা ট্রাম্পের বর্তমান মেয়াদে সবচেয়ে কম। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে এ ইস্যুতে রিপাবলিকানরা ডেমোক্র্যাটদের চেয়ে ২৬ শতাংশ পয়েন্ট এগিয়ে ছিল।

রয়টার্স/ইপসোসের এই অনলাইন জরিপে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ১ হাজার ১৬৬ জন প্রাপ্তবয়স্ক অংশ নেন। জরিপের ভুলের সীমা প্লাস বা মাইনাস ৩ শতাংশ পয়েন্ট।

আরও খবর

Sponsered content