সিলেট প্রতিনিধি: ৬ এপ্রিল ২০২৬ , ২:০৩:১৫ প্রিন্ট সংস্করণ
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার উৎমা সীমান্ত দিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশের পর নিখোঁজ হওয়া সাদ্দাম হোসেন (৩২) নামের এক বাংলাদেশি যুবকের মরদেহ সীমান্তের ওপারে পড়ে আছে বলে দাবি করেছে তার পরিবার। ১ এপ্রিল ঘটনার পর রোববার (৫ এপ্রিল) বিকেল পর্যন্ত মরদেহ উদ্ধারের বিষয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত সাদ্দাম হোসেন উপজেলার উত্তর রণিখাই ইউনিয়নের লামাগ্রামের বাসিন্দা কুটু মিয়ার ছেলে।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১ এপ্রিল সাদ্দাম কয়েকজনের সঙ্গে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন। এরপর তিনি আর ফিরে আসেননি। তার সঙ্গে যাওয়া তিনজনের মধ্যে একজন গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দেশে ফিরে আসেন। সাদ্দামের বন্ধু আবু বক্কর পরিবারের সদস্যদের জানান, সাদ্দামকে কোমর ও পায়ে গুলি করা হয়েছে এবং তার মরদেহ ভারতের ভেতরেই পড়ে রয়েছে।
নিহতের বড় ভাই নিজাম উদ্দিন বলেন, “সাদ্দাম বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় মোবাইল সঙ্গে নেয়নি। প্রথমে আমরা ভেবেছিলাম, সে হয়তো কোনো আত্মীয়ের বাড়িতে গেছে। পরে জানতে পারি, সে অন্যদের সঙ্গে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে গিয়েছিল। আমরা এখন অন্তত তার মরদেহটি দেশে ফেরত চাই।”
এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, শনিবার সাদ্দামের স্ত্রী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি বলেন, ঘটনাটি দেশের অভ্যন্তরে ঘটেনি বলে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত যাচাই করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে বিষয়টি বিজিবিকে জানানো হয়েছে।
এদিকে, ৫ এপ্রিল বিজিবি প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ১ এপ্রিল বিকেলে ৪ থেকে ৫ জন বাংলাদেশি চোরাকারবারি সুপারি চুরির উদ্দেশ্যে ভারতের অভ্যন্তরে রাজন টিলা নামক খাসিয়া পল্লীতে প্রবেশ করে। সেখানে স্থানীয় খাসিয়াদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে এবং এতে সাদ্দাম হোসেন নিখোঁজ হন।
বিজিবি আরও জানায়, নিখোঁজ সাদ্দাম হোসেনের পরিবারের পক্ষ থেকে ৪ এপ্রিল কোম্পানীগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সিলেট বিজিবি-৪৮ ব্যাটালিয়ন ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করছে এবং নিখোঁজ ব্যক্তির অবস্থান শনাক্তে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
এ ছাড়া সীমান্ত এলাকায় বিজিবির নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম না করার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।




















