প্রতিনিধি ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ৬:১৩:২০ প্রিন্ট সংস্করণ
খুলনা সিটি করপোরেশনের ১ থেকে ১৫ নম্বর ওয়ার্ড, যোগীপোল ও আড়ংঘাটা ইউনিয়ন নিয়ে খুলনা-৩ আসন। শ্রমিক-অধ্যুষিত এ এলাকায় অতীতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি পালা করে জিতেছে। আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে এ আসনে প্রার্থী ১০ জনা। তবে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুল ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমানের মধ্যে। এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নিতে না পারায় দলটির কর্মী-সমর্থকদের ভোট জয়-পরাজয় নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে।
খুলনা-৩ আসনের প্রচার-প্রচারণায় ধানের শীষ আর দাঁড়িপাল্লাকে প্রায় সমানে সমান বলা যায়। তবে ভোটের রকিবুল ইসলাম বকুলের অবস্থান তুলনামূল বেশ ভালো বলে স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হল শাখা ছাত্রদলের নির্বাচিত জিএস, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের দুবার সহ-সভাপতি ছিলেন তিনি। বর্তমানে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। গণসংযোগে পাড়া-মহল্লা ছুটে বেড়াচ্ছেন তিনি পাচ্ছেন ভোটারদের ব্যাপক সাড়া।
এ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও খুলনা মহানগরী আমীর খুলনা-৩ আসনের জামায়াত মনোনীত ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান। তফসিল ঘোষণার পর থেকে তিনি নেমে পড়েন ভোটের মাঠে । ধানের শীষের প্রার্থীকে চ্যালেঞ্জ জানাতে গ্রহণ করেছেন ব্যাপক প্রস্তুতি।
খুলনা-৩ আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মো. আবদুল আউয়াল। তিনি ২০২৩ সালে খুলনা সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে ৬০ হাজার ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হন। তাঁরও একটা ভোটব্যাংক আছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সরেজমিনে খুলনা-৩ আসনের কয়েকটা এলাকা ঘুরে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে ধারনা করা যায়, জনসমর্থনে ধানের শীষের প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুল কিছুটা এগিয়ে রয়েছেন। ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে আসা এই নেতার প্রতি তরুণপ্রজন্মের সমর্থন জামায়াত প্রার্থীর তুলনায় অনেক বেশি। তার গণসংযোগে তারুণ্যের অংশগ্রহণ চোখে পড়ার মতোই। নির্বাচনী প্রচারণা তার দেওয়া নানা প্রতিশ্রুতি আলোচিত হচ্ছে।
গণসংযোগকালে রকিবুল ইসলাম বকুল বলেছেন, খুলনা-৩ আসনটি মূলত শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের এলাকা হিসেবে পরিচিত। এখানে মানসম্মত চিকিৎসা সেবার চরম সংকট রয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে উন্নত চিকিৎসার জন্য এই অঞ্চলের মানুষকে আজও ঢাকার ওপর নির্ভর করতে হয়। এই বঞ্চনার অবসান ঘটাতেই তিনি নির্বাচিত হওয়ার পর অগ্রাধিকার ভিত্তিতে একটি আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণ করবেন, যেখানে নামমাত্র মূল্যে সাধারণ মানুষ সকল আধুনিক চিকিৎসা সেবা পাবেন।
গত ২২ জানুয়ারি খালিশপুরে এক জনসমাবেশে বিএনপির এই প্রার্থী বলেন, যে সম্পদ বা ক্ষমতার প্রকৃত মালিক মানুষ নয়। কিন্তু তা দেওয়ার কথা বলা এক ধরনের মিথ্যাচার এবং মুসলমানদের জন্য শিরকের শামিল। যারা ভোটের আগেই এমন মিথ্যে প্রলোভন দেখিয়ে জনগণকে ধোঁকা দিচ্ছে। তারা নির্বাচিত হওয়ার পর জনগণের ওপর চরম জুলুম ও প্রতারণা চালাবে।
তিনি বলেন, সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষকে এভাবে বিভ্রান্ত করা কেবল রাজনৈতিক অনৈতিকতা নয়, বরং বড় ধরনের ধর্মীয় অবমাননা। আসন্ন নির্বাচনে এই ধরনের প্রতারক দলের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে এবং নিজেদের ইমান ও অধিকার রক্ষায় সাধারণ মানুষকে সচেতন হওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানান তিনি।
জনগণের রায় নিয়ে তিনি সংসদে যেতে পারলে এই অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কোনো আপস করবেন না বলেও অঙ্গীকার করেছেন বিএনপির প্রার্থী।




















