প্রতিনিধি ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ৩:৩২:২৯ প্রিন্ট সংস্করণ
রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা–১২ আসনে জমে উঠেছে ভিন্নধর্মী এক নির্বাচনী লড়াই। ধানের শীষ প্রতীক না থাকলেও বিএনপি–সমর্থিত জোটের প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। তাঁর পাশাপাশি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল আলম নীরব এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী সাইফুল আলম খান মিলন। নামের মিল ঘিরে ভোটারদের মধ্যে যেমন কৌতূহল তৈরি হয়েছে, তেমনি রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে তিন ‘সাইফুল’।
স্থানীয়দের ধারণা, মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা এই তিন প্রার্থীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। যদিও নির্বাচন কমিশনের তালিকা অনুযায়ী, এ আসনে মোট ১৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বাকি প্রার্থীরাও মাঠে সক্রিয় থাকলেও প্রচার-প্রচারণা ও সমর্থকদের উপস্থিতিতে এগিয়ে তিন সাইফুলই।
সকাল ১১টার দিকে শেরেবাংলা নগর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে কয়েকশ মানুষের উপস্থিতি দেখা যায়। সেখানে অবস্থানরত কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সমাগমের বড় অংশই বিভিন্ন প্রার্থীর সমর্থক। কেন্দ্রের বাইরে ফুটবল, দাঁড়িপাল্লা ও কোদাল প্রতীকের সমর্থকদের ছোট ছোট জটলা চোখে পড়ে।
আশরাফ হোসাইন ইসলামী আন্দোলনের এক সমর্থক অভিযোগ করেন, সকাল থেকে কেন্দ্রের সামনে বিভিন্ন প্রতীকের সমর্থকরা মহড়া দিচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এলে সরে যায়, পরে আবার জড়ো হয়।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জামায়াত সমর্থিত এক ওয়ার্ড সভাপতি আয়াতুল্লাহ বলেন, দাঁড়িপাল্লার সমর্থকরা নির্ধারিত দূরত্ব বজায় রেখে অবস্থান করছে। অন্য প্রতীকের কিছু সমর্থক অপ্রয়োজনীয় জটলা তৈরি করছে।
অন্যদিকে কোদাল প্রতীকের সমর্থক রবিউল পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, “দাঁড়িপাল্লা ও ফুটবলের সমর্থকদের কেউ কেউ ভোটারদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। প্রবেশমুখের সামনে জটলা তৈরি করে পরিবেশ নষ্ট করছে।
একই ধরনের চিত্র দেখা গেছে পূর্ব রাজাবাজারের ড. নাজনীন স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সেখানে গিয়ে দেখা যায়, ভোটারের তুলনায় সমর্থকদের উপস্থিতি কয়েকগুণ বেশি। রাস্তার দুপাশে দলীয় সমর্থকদের জটলা এবং ৩০–৪০ জনের ছোট ছোট গ্রুপে শোডাউনের মতো অবস্থান লক্ষ্য করা গেছে। তবে কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার সালাউদ্দিন বলেন, ভোটগ্রহণ সুষ্ঠুভাবেই চলছে। ভেতরে কোনো ঝামেলা নেই। বাইরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রয়েছে এবং যৌথবাহিনী নিয়মিত টহল দিচ্ছে।
নামের মিলকে কেন্দ্র করে আলোচনায় থাকা এই আসনে ভোটের লড়াই যত এগোচ্ছে, ততই সমর্থকদের সরব উপস্থিতি নির্বাচনী পরিবেশে বাড়তি উত্তাপ যোগ করছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।














