রাজনীতি

তাদের তো দেশের মানুষ ১৯৭১ সালেই দেখেছে: তারেক রহমান

  প্রতিনিধি ৭ ডিসেম্বর ২০২৫ , ১০:০০:৫৬ প্রিন্ট সংস্করণ

কোনো দলের নাম উল্লেখ না করে জামায়াতে ইসলামীকে উদ্দেশ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘কিছু মানুষ বা কোনো কোনো গোষ্ঠীকে ইদানীং বলতে শুনেছি বা বিভিন্ন জায়গায় কেউ কেউ সোশ্যাল মিডিয়ায় বলে যে অমুককে দেখলাম, তমুককে দেখলাম, এবার অমুককে (জামায়াতে ইসলামী) দেখুন। যাদের কথা বলে অমুককে দেখুন, তাদের তো দেশের মানুষ ১৯৭১ সালেই দেখেছে। ১৯৭১ সালে তারা তাদের নিজেদের স্বার্থে রক্ষার্থে কীভাবে লাখ লাখ মানুষকে হত্যা করেছে। ঠিক যেভাবে পতিত স্বৈরাচার পালিয়ে যাওয়ার আগে হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করেছিল ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য। এই যাদের কেউ কেউ বলে যে একবার দেখুন না এদের। তাদের দেশের মানুষ ১৯৭১ সালেই দেখেছে।’

রোববার (৭ ডিসেম্বর) রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপির উদ্যোগে বিজয়ের মাস উপলক্ষে ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় লন্ডন থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, ‘লাখ লাখ মানুষকে শুধু হত্যাই করেনি, তাদের সহকর্মীরা কীভাবে মা-বোনদের ইজ্জত পর্যন্ত লুট করেছিল, এ কথাটি আমাদের মনে রাখতে হবে।’

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের কিছু ব্যক্তি বা বেশ কিছু ব্যক্তি বিভিন্ন জিনিসের টিকিট বিক্রি করে বেড়াচ্ছেন। বিভিন্ন জিনিসের কনফারমেশন (নিশ্চয়তা) দিয়ে বেড়াচ্ছেন। দোজখ, বেহেশত, দুনিয়া সবকিছুর মালিক আল্লাহ। যেটার মালিক আল্লাহ, যেটার কথা একমাত্র আল্লাহ তাআলাই বলতে পারেন, সেখানে যদি আমি কিছু বলতে চাই, আমার নরমাল দৃষ্টিকোণ থেকে আমি বুঝি যে সেটি হচ্ছে শিরক।’

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘জনগণের ঘরে ঘরে যেতে হবে এবং বলতে হবে যারা এসব কথা বলে তারা শিরিক করছে। আপনি যদি তাদের কথা শুনেন, আপনিও শিরিকের পর্যায়ে পড়ে যাবেন। যার অধিকার একমাত্র আল্লাহতাআলার, সেটি একমাত্র আল্লাহর অধিকার। কে কোথায় যাবে? কার ইহকালে কি হবে, পরকালে কি হবে, তা ডিসাইড করার অধিকার একমাত্র আল্লাহর। আমরা পৃথিবীতে মানুষ হিসাবে মানুষের দেখভাল, যতটুকু সম্ভব আমাদের দৃষ্টি থেকে আমরা করতে পারব। আমাদের শক্তি সামর্থ্য অনুযায়ী করতে পারব। একজন মুসলমান হিসেবে আমি সেটাই বুঝি। এই কথাগুলো তোমাদেরকে পৌঁছে দিতে হবে।’

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘স্বৈরাচার যেভাবে বিএনপি সম্পর্কে যেসব মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়াতো, আমরা ইদানিং লক্ষ্য করছি- কিছু কিছু ব্যক্তি বা দল ঠিক একই সুরে গান গাইছে বা একই সুরে কতগুলো কথা বলার চেষ্টা করছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, তাদেরও তো দু’জন ব্যক্তি সেই সময় আমাদের সঙ্গে সরকারের ছিল। এই দু’জন ব্যক্তি পৃথিবীতে আর নেই। দু’জনই সিনিয়র মানুষ। দু’জনই সিনিয়র রাজনীতিবিদ ছিলেন। যে মানুষ নেই তাদের সম্পর্কে অবশ্যই খারাপ কথা বলা উচিত নয়। তাদের প্রতি পরিপূর্ণ সম্মান রেখেই বলতে চাই, এই দু’জন ব্যক্তি বিএনপির সরকারে শেষদিন পর্যন্ত থাকা প্রমাণ করে দেয়, তাদের পূর্ণ আস্থা ছিল খালেদা জিয়ার উপরে। সেজন্যই তারা শেষদিন পর্যন্ত ছিলেন।’

তিনি বলেন, ‘কেউ কেউ বলে থাকে যে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো কিছু অভিযোগ পাওয়া যায় না। আজকে যখন নিরপেক্ষ কোর্ট বসেছে, স্বৈরাচারের সময় আমরা দেখেছি- কিভাবে আদালতকে ইনফ্লুয়েন্স করা হতো। কিন্তু স্বৈরাচার পালিয়ে যাওয়ার পরে মোটামুটি আমরা বলতে পারি যে, আদালত এখন নিরপেক্ষতা আমরা আশা করি। সেই নিরপেক্ষ আদালত থেকে আমরা দেখেছি, কারো বিরুদ্ধেই কোনো জিনিস প্রমাণিত হয়নি। এটি ছিল প্রোপাগান্ডা। কাজেই আমাদেরকে আজকে এই কনক্লুশনেই আসতে হবে যে, একমাত্র বিএনপি পেরেছিল দেশকে দুর্নীতি থেকে বের করে নিয়ে আসতে। ইনশাআল্লাহ আগামী দিনেও বিএনপি পারবে।’

দুর্নীতির প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, ‘আমি প্রায় এক বছরের বেশি সময় ধরে বলে আসছি, আমাদের সামনে সময়গুলো কিন্তু খুব ভালো নয়। সামনে অনেক কঠিন সময় অপেক্ষা করছে আমাদের জন্য। বিভিন্নভাবে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র বিভিন্নভাবে হচ্ছে। এই ষড়যন্ত্র রুখে দিতে পারে এদেশের জনগণ। এই ষড়যন্ত্র দেশের জনগণকে সঙ্গে রুখে দিতে পারে বিএনপি। এই ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়ার একমাত্র উপায় হচ্ছে, গণতন্ত্র, গণতন্ত্র এবং গণতন্ত্র। আমরা যদি গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারি, যেকোনো মূল্যে জনগণের মতামতকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারি তাহলে অবশ্যই অনেক ষড়যন্ত্রকে আমরা রুখে দিতে পারব। কিন্তু ষড়যন্ত্রকে রুখে দিতে পারলেও তারপরেও কিন্তু সামনে অনেক কঠিন সময়। যেকোনো মূল্যে দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দুইটি বিষয়কে যদি আমরা এড্রেস করতে না পারি আমাদের পুরো জাতি এবং দেশ সংকটের মধ্যে পড়বে। এক দুর্নীতি যেকোনো মূল্যে দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে হবে। দুই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। যেকোনো মূল্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির লাগাম টেনে ধরতে হবে। যদি আমরা দুর্নীতি এবং আইনশৃঙ্খলা লাগাম টেনে ধরতে না পারি তাহলে আমরা যে পরিকল্পনাগুলি গ্রহণ করেছি, মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে, দেশের ভবিষ্যৎ সন্তানদের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে, দেশের কৃষি ব্যবস্থা, নারী সমাজকে এগিয়ে নেওয়ার মতো প্রত্যেকটি পরিকল্পনা আমাদের বাধাগ্রস্ত হবে। সেজন্যই আমাদের সরকার গঠনের সুযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সর্বপ্রথমে আমাদেরকে ব্যবস্থা করতে হবে দুর্নীতির লাগাম কিভাবে আমরা টেনে ধরব।’

এর আগে সকালে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অনুষ্ঠানে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও দেশ গড়া পরিকল্পনা শীর্ষক কমিটির আহ্বায়ক রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী-খান সোহেলের সঞ্চালনায় সভায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরী, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমিনুল হক, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন, বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল বক্তব্য দেন।

আরও খবর

Sponsered content