প্রতিনিধি ২০ জুলাই ২০২৫ , ১:২৩:০২ প্রিন্ট সংস্করণ
বৌদ্ধ ভিক্ষুদের সঙ্গে গোপনে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করে সেই দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করতেন এক তরুণী। পরে সেই ছবি ও ভিডিও দিয়ে ভয় দেখিয়ে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। অবশেষে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের নোনথাবুরি এলাকা থেকে বিলাসবহুল বাসভবনসহ ‘মিসেস গলফ’ নামে পরিচিত উইলাওয়ান এমসাওয়াত (৩০) নামের ওই তরুণীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
৮০ হাজারের বেশি ছবি ও ভিডিও উদ্ধার, ১৪৩ কোটি টাকার ব্ল্যাকমেইল!
থাই পুলিশের তথ্য মতে, তিন বছরে অন্তত ৯ জন বৌদ্ধ ভিক্ষুকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে যৌনতার জালে জড়ান উইলাওয়ান। পরে গোপনে ধারণ করা সেই দৃশ্য দেখিয়ে চাঁদা আদায় করেন। অভিযুক্ত এই নারী প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৪৩ কোটি টাকা) ভিক্ষুদের কাছ থেকে আদায় করেছেন বলে জানায় থাই পুলিশ।
গ্রেপ্তারের সময় তার বাড়ি থেকে ৮০ হাজারেরও বেশি গোপন ছবি ও ভিডিও জব্দ করা হয়। তদন্তে জানা যায়, অনেকে এক দিনেই তাকে ৯০ হাজার ডলার পর্যন্ত দিয়েছেন। এই অর্থ দিয়ে তিনি অনলাইন জুয়াসহ বিলাসবহুল জীবনযাপন করতেন।
মঠের দানবাক্স থেকেই যৌনতা মেটানোর টাকা!
চাঞ্চল্যকর আরও তথ্য উঠে এসেছে তদন্তে। বৌদ্ধ ভিক্ষুরা নিজেদের ব্যক্তিগত আয়ের বদলে মঠের দানবাক্স ও উন্নয়ন প্রকল্পের ফান্ড থেকে এসব অর্থ জোগাড় করতেন। এই অর্থ নয়-ছয় করে তারা উইলাওয়ানকে দিতেন, যাতে ভিডিও ফাঁস না হয়।
ব্রহ্মচর্য ভঙ্গ, ৯ জন ভিক্ষুকে বহিষ্কার
উইলাওয়ানের ফাঁদে পা দেওয়া ভিক্ষুরা সবাই ব্রহ্মচর্যের কঠোর নিয়ম লঙ্ঘন করেছেন। ৯ জন ভিক্ষুর গেরুয়া পোশাক পরার অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে উচ্চপদস্থ সন্ন্যাসীরাও রয়েছেন। থাই সরকার এসব সন্ন্যাসীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে।
রাজকীয় প্রতিক্রিয়া: জন্মদিনে ভিক্ষুদের আমন্ত্রণ বাতিল করলেন রাজা
এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন থাই রাজা মহা ভাজিরালংকর্ন। আগামী ৭৩তম জন্মদিন উপলক্ষে যে ৮০ জন ভিক্ষুকে রাজপ্রাসাদে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, তা বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে ৮১ জন ভিক্ষুকে যে রাজকীয় উপাধি দেওয়ার কথা ছিল, সেটিও প্রত্যাহার করেছেন তিনি।
বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা
থাইল্যান্ডের বৌদ্ধ ধর্মীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা এই কেলেঙ্কারি তদন্তে একটি বিশেষ কমিটি গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, সন্ন্যাসীদের জন্য কঠোর নিয়মনীতির পুনঃমূল্যায়ন করা হবে।
জনমনে প্রতিক্রিয়া ও প্রশ্ন
প্রতিবাদ জানিয়ে অনেকে বলছেন, যারা সমাজের নৈতিক দিকনির্দেশক হওয়ার কথা, তারাই এমন কাণ্ড ঘটালে সাধারণ মানুষ কাকে অনুসরণ করবে? আবার কেউ প্রশ্ন তুলছেন— এত টাকার উৎস কীভাবে অজানা থেকে গেল?
একদিকে যখন বৌদ্ধধর্মের শান্তিপূর্ণ ভাবমূর্তি রক্ষা করা জরুরি হয়ে পড়েছে, অন্যদিকে এই কেলেঙ্কারি থাইল্যান্ডের সমাজব্যবস্থাকে নাড়িয়ে দিয়েছে। ‘মিসেস গলফ’-এর মতো ব্যক্তির পাশাপাশি, ধর্মীয় লেবাসে লুকিয়ে থাকা ভণ্ডদের মুখোশ খুলে ফেলার দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।




















