সারাদেশ

নাগেশ্বরীতে ভুল অস্ত্রোপচারে প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগে তালাবদ্ধ জনতা ক্লিনিক

  কুড়িগ্রাম উত্তর ধরলা প্রতিনিধি: ১১ মার্চ ২০২৬ , ১২:২৬:৪০ প্রিন্ট সংস্করণ


কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলা সদরের বাসস্ট্যান্ড এলাকার জনতা ক্লিনিকে ভুল অস্ত্রোপচারের অভিযোগে জেসমিন বেগম নামে এক প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এর আগেও একই ক্লিনিকে ভুল অস্ত্রোপচারের কারণে কয়েকজন রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার (৯ মার্চ) ভোর রাত ৩টার দিকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে জেসমিন বেগমের মৃত্যু হয়। তবে তার নবজাতক ছেলে সন্তান সুস্থ রয়েছে।

নিহত জেসমিন বেগম নাগেশ্বরী পৌরসভার জুম্মাপাড়া (মুন্সিপাড়া) এলাকার হোটেল শ্রমিক সালমান হোসেনের স্ত্রী এবং পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের ষোলরখামার এলাকার জাহিদুল ইসলামের মেয়ে। আড়াই বছর আগে তাদের বিয়ে হয় এবং এটি ছিল তাদের প্রথম সন্তান।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রোববার (৮ মার্চ) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে প্রসব বেদনা শুরু হলে জেসমিন বেগমকে বাসস্ট্যান্ড এলাকার জনতা ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই রাত ৮টার দিকে গাইনি রোগ বিশেষজ্ঞ ও সার্জন ডা. মাহমুদা খাতুন (মুক্তা) তার সিজারিয়ান অপারেশন করেন। এতে একটি সুস্থ পুত্রসন্তানের জন্ম হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, অস্ত্রোপচারের কিছুক্ষণ পর জেসমিন বেগম পেটে তীব্র যন্ত্রণা অনুভব করে চিৎকার করতে থাকেন। পরে পরীক্ষা করে দেখা যায় সিজারের সময় তার পেটে অস্ত্রোপচারের ছুরি রয়ে গেছে। পরে রাত ১১টার দিকে পুনরায় অস্ত্রোপচার করে পেট থেকে ছুরিটি বের করা হয়।

এরপর রাত ২টার দিকে জেসমিন বেগমের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে জরুরি ভিত্তিতে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার জন্য রওনা করা হয়। পথে রাত ৩টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

নিহতের বাবা জাহিদুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসা ও অবহেলার কারণেই তার মেয়ের মৃত্যু হয়েছে।

নিহতের স্বামী সালমান হোসেন বলেন, ক্লিনিকের স্বত্বাধিকারী মতিয়ার রহমান ও চিকিৎসকের অবহেলার কারণে আমার স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। তবে আমার নবজাতক সন্তান সুস্থ রয়েছে।

এ বিষয়ে জনতা ক্লিনিকের স্বত্বাধিকারী মতিয়ার রহমান বলেন, স্থানীয়দের মধ্যস্থতায় বিষয়টি সমাধান হয়েছে এবং এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের প্রয়োজন নেই।

সংবাদ সংগ্রহের সময় জনতা ক্লিনিকে গিয়ে দেখা যায়, মূল ফটকে তালা ঝুলানো রয়েছে। সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে ভেতরে থাকা কয়েকজন স্টাফ কক্ষে আত্মগোপন করেন বলে জানা যায়।

কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. স্বপন কুমার বিশ্বাস বলেন, বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও খবর

Sponsered content