স্টাফ রিপোর্টারঃ ১২ মে ২০২৫ , ৫:৫১:১৭ প্রিন্ট সংস্করণ
বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়াউর রহমান কে খুনি আখ্যা দিয়ে মরোনোত্তর বিচার দাবী এবং সাবেক প্রধান মন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে পতিতা বলে কু-রুচিপূর্ণ ও আপত্তিকর বক্তব্য প্রদানের অভিযোগসহ একাধিক শিক্ষকে অভিযোগের প্রেক্ষিতে বগুড়ার সারিয়াকান্দি কলেজের অধ্যক্ষ (অধ্যক্ষ) পদ থেকে নাশকতা মামলার আসামী উপাধ্যক্ষ মুনজুর মোরশেদ কে অপসারণ করা হয়েছে।
গত ০৮ মে সারিয়াকান্দি কলেজের এডহক কমিটির সভাপতি ও উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি নূর এ আজম বাবু স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ অপসারণ আদেশ দেওয়া হয়েছে।
সারিয়াকান্দি কলেজের সহকারী অধ্যাপক সাদেক মোহাম্মদ আজিজ লাবলুর অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ১লা মার্চ ২০২৩ তারিখে বেলা ১১ ঘটিকায় সারিয়াকান্দি কলেজ মাঠ মঞ্চে অধ্যক্ষ সাইদুজ্জামানের সভাপতিত্ত্বে অত্র কলেজের নবীন বরণ অনুষ্ঠানের আলোচনায় কলেজের উপাধ্যক্ষ মুনজুর মোর্শেদ তার বক্তব্যে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নাম তুচ্ছ তাচ্ছিল্যভাবে উচ্চারণ করে তাঁকে খুনি, পাকিস্থানের দালাল ও রাজাকার আখ্যা দিয়ে জিয়াউর রহমানের মরোনোত্তর বিচার দাবী করেন এবং সাবেক প্রধান মন্ত্রী বিএনপি’র চেয়াপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে পতিতা ও চরিত্রহীনসহ তার ব্যক্তিগত চরিত্র নিয়ে অত্যন্ত আপত্তিকর বক্তব্য প্রদান করেন যা ভাষায় প্রকাশ যোগ্য নয়। এছাড়াও মুনজুর মোরশেদ স্বৈরাচার হাসিনার এপিএস সাইফুজ্জামান শিখরের ঘনিষ্টজন এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অস্ত্রধারী ছাত্রলীগ ক্যাডার বিবেচনায় অত্র সারিয়াকান্দি কলেজে অবৈধ পন্থায় উপাধ্যক্ষ পদে নিয়োগ পায়। তিনি স্থানীয় সংসদ নির্বাচনে প্রিজাইডিং এর দায়িত্ব গ্রহণ করে প্রত্যেকবারই ভোট চুরির দায়ে জনগনের রোষানলে পড়ে এবং নিয়োগ বাণিজ্যের ব্যবসা করতে গিয়ে এলাকায় একজন চিটিং বাটপার হিসেবে পরিচিত। ৫ আগষ্টের মাধ্যমে খুনি হাসিনার পলায়নের সাথে অত্র কলেজের দূর্নীতিবাজ ও দখলবাজ অধ্যক্ষ এবং উল্লেখিত উপাধ্যক্ষও পলায়ন করেন। মুনজুর মোরশেদ একজন নাশকতা মামলার আসামি বলেও ওই অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রুহুল আমিনের এক অভিযোগে জানা যায়, উপাধ্যক্ষ মুনজুর মোরশেদের সংশ্লিষ্টতায় কলেজ ক্যাম্পাসে সন্ত্রাসী কর্তৃক শিক্ষকদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
এমন অভিযোগের সত্যতা পেয়ে গত ০৮ মে এডহক কমিটির সভাপতি নূর এ আজম বাবু স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে মুনজুর মোরশেদকে অধ্যক্ষ পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে আবারও উপাধ্যক্ষ পদে বহাল রাখার কথা জানানো হয়েছে। একই দিনে আলাদা চিঠিতে উক্ত কলেজের সহকারী অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
রাশেদ মিয়া /এমআই





















