প্রতিনিধি ৮ নভেম্বর ২০২৬ , ১২:৪৪:৪০ প্রিন্ট সংস্করণ
নামের মিলের কারণে ১০ মাস ধরে কারাগারে থাকা মো. আলমাস নামের এক ব্যক্তিকে অবিলম্বে মুক্তির নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
রোববার (৮ নভেম্বর) বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভূঞার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
আদালটে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মহিউদ্দিন হানিফ এবং আবেদনের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট তানভীর আহমেদ।
এর আগে গত ৫ নভেম্বর হাইকোর্টে আসা প্রতিবেদনে বলা হয়, অস্ত্র মামলার প্রকৃত সাজাপ্রাপ্ত আসামি মো. আলমাছ বিচারের শুরু থেকেই পলাতক এবং বর্তমানে কানাডায় আছেন। আর কারাগারে থাকা মো. আলমাস ঢাকার দোহারের কুসুমহাটির অধিবাসী শেখ খলিলের পুত্র; তিনি ওই মামলার প্রকৃত আসামি নন। এই মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি হলেন দোহারের নয়াবাড়ী ইউনিয়নের পূর্ব ধোয়াইর গ্রামের মো. খলিলুর রহমানের ছেলে মো. আলমাছ। যিনি ঢাকার মিরপুর থানার অস্ত্র আইনের মামলার দশ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি। কারাগারে থাকা আলমাস আর কানাডায় অবস্থান করা দণ্ডিত আলমাছ দুজন সম্পূর্ণ ভিন্ন ব্যক্তি। আসামি না হয়েও অস্ত্র মামলায় তাকে দশ বছরের দণ্ডিত হিসেবে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
এ বিষয়ে আইনি প্রতিকার চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন নিরপরাধ মো. আলমাস। ওই রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ঘটনার বিষয়ে বিচারিক অনুসন্ধানের নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। ওই নির্দেশনা মোতাবেক সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমান ঘটনার অনুসন্ধান করে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিল করেন।
প্রতিবেদনে নিরপরাধ আলমাসের গ্রেপ্তারের পেছনে বেশ কিছু কারণ ও অসংগতি তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, মূল মামলার ফরোয়ার্ডিং, পুলিশ প্রতিবেদন এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় আসামির ঠিকানায় ভুল ছিল। ২০০৭ সালের আগে গ্রেপ্তারকৃত আলমাস দক্ষিণ বাহ্রা ডাকঘরের অধীন বাহ্রা গ্রামে বসবাস করতেন এবং প্রকৃত আসামির গ্রাম পূর্ব ধোয়াইরও একই ডাকঘরের অধীন হওয়ায় ঠিকানা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। এছাড়া উভয়ের পিতার নামে অনেকাংশে মিল ছিল। এই নামের সাদৃশ্য পরিচয় নির্ধারণে বিভ্রান্তি বাড়িয়েছে। যদিও দুজনের পিতা ও পিতামহের নামে অমিল রয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া আলমাসের পিতা শেখ খলিল এবং পিতামহ শেখ নওয়াব আলী। অন্যদিকে দণ্ডিত আলমাছের পিতার নাম এজাহার অনুসারে খলিল আহম্মেদ এবং পিতামহ শেখ শহর আলী। এমনকি দুই পরিবারের ভাইবোনের তালিকার মধ্যেও কোনো মিল পাওয়া যায়নি। প্রকৃত আসামি মো. আলমাছ তিন বোনের একমাত্র ভাই, আর গ্রেপ্তার হওয়া মো. আলমাসের আছে দুই ভাই ও দুই বোন।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০০২ সালে প্রকৃত আসামি আলমাছের বয়স ছিল ২৪ বছর, সেই হিসাবে ২০২৬ সালে তার বয়স হওয়ার কথা প্রায় ৪৮। অন্যদিকে গ্রেপ্তারকৃত আলমাসের জন্মতারিখ ১৯৮৫ সালের ১০ ডিসেম্বর। সেই হিসেবে তার বর্তমান বয়স ৪১ বছর, অর্থাৎ ২০০২ সালে তিনি ছিলেন প্রায় ১৭ বছরের। বয়সের ব্যবধান প্রায় ৭ বছরে। এটি উপেক্ষা করার মতো নয়।
পাশাপাশি তাদের মধ্যে জীবনযাপনের ধরনেও অমিল আছে। মামলার মূল আসামি মিরপুরের পাইকপাড়ায় থাকতেন। তার কোনো পেশা ছিল এই মর্মে মিরপুর থানার মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই। অন্যদিকে গ্রেপ্তার আলমাস কৃষিকাজ ও ইলেকট্রিকের কাজ করে জীবন চালিয়েছেন।
সব দিক বিবেচনা করে আদালত নাম ও ঠিকানার এই বিভ্রান্তি এবং তদন্তে ভুল শনাক্ত করার পর নিরপরাধ মো. আলমাসকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দেন।





















