ইসলামাবাদ, পাকিস্তান ॥ ১৪ অক্টোবর ২০২৫ , ৭:০৪:১৭ প্রিন্ট সংস্করণ
পাকিস্তানের কট্টর ইসলামপন্থী দল তেহরিক-ই-লাব্বাইক পাকিস্তান (টিএলপি)-এর আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স অপারেশন চালিয়েছে। রবিবার রাতে সরকার ও টিএলপি’র আলোচনায় কোনো সমাধান না আসায় সোমবার মুরিদকে শহরে অভিযান শুরু করা হয়। এতে অন্তত ৫ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একজন পুলিশ সদস্যও আছেন।
টিএলপি বৃহস্পতিবার থেকে লাহোরে ইসরায়েলবিরোধী বিক্ষোভ শুরু করেছিল। তারা ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের দিকে পদযাত্রা ঘোষণা করলে লাহোর থেকে ইসলামাবাদ পর্যন্ত সড়ক বন্ধ করা হয় এবং ইন্টারনেট সংযোগও বিচ্ছিন্ন রাখা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, টিএলপি কর্মীরা পুলিশের ওপর পাথর, লোহার দণ্ড ও পেট্রল বোমা ছোড়ে এবং নির্বিচারে গুলি চালায়। এতে ৪৮ জন পুলিশ ও ৮ জন সাধারণ মানুষ আহত হয়েছেন। অভিযান শেষে রাস্তায় জ্বলন্ত গাড়ি এবং দলের নেতার প্রধান ট্রাক পড়ে থাকতে দেখা যায়।
টিএলপি দাবি করেছে, তাদের আন্দোলন মূলত যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধবিরতির বিরোধিতা ও ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশের জন্য। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযান চলাকালীন তাদের ওপর গুলি ও টিয়ার গ্যাস ছোড়া হয়।
রাজধানী ইসলামাবাদে বিক্ষোভকারীরা পৌঁছাতে পারে এই আশঙ্কায় প্রশাসন বড় সড়কগুলোতে কনটেইনার বসিয়ে ব্যারিকেড তৈরি করেছে। শুক্রবারের সংঘর্ষে অন্তত ৫০ পুলিশ আহত হন বলে জানানো হয়। টিএলপি তাদের কয়েকজন সদস্য নিহত হওয়ারও দাবি করেছে, যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
এদিকে শুক্রবার ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে এবং সেনা প্রত্যাহার শুরু করে। এই সময়ে হাজারো ফিলিস্তিনি ধ্বংসস্তূপের মধ্যে নিজেদের বাড়ির পথে রওনা হয়। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ মিশরে গাজা শান্তি চুক্তির স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যোগ দেন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে গণহত্যা প্রতিরোধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
পাকিস্তানের সঙ্গে ইসরায়েলের কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই।
সূত্র: রয়টার্স, এএফপি, স্থানীয় সংবাদমাধ্যম





















