সাঈদ ইবনে হানিফ, বাঘারপাড়া (যশোর) ৫ অক্টোবর ২০২৬ , ৯:৫৬:১৭ প্রিন্ট সংস্করণ
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে যশোরের বাঘারপাড়ায় ৯২টি পূজামণ্ডপের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার বাঘারপাড়া থানায় আয়োজিত এ সভায় পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং পূজা চলাকালে করণীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)।
সভায় প্রতিটি পূজামণ্ডপে পর্যাপ্তসংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন, সিসি ক্যামেরা স্থাপন এবং মণ্ডপের আশপাশের সার্বিক পরিস্থিতি নজরদারির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। কোনো ব্যক্তি বা কর্মকাণ্ড সন্দেহজনক মনে হলে আইন নিজের হাতে না নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ও প্রশাসনকে জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পূজামণ্ডপগুলোতে নিয়মিত পুলিশের পাশাপাশি মোবাইল টিম ও সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। বিশেষ করে মধ্যরাত থেকে শেষ রাত পর্যন্ত মণ্ডপগুলোতে বাড়তি সতর্কতা ও নজরদারি রাখা হবে।
কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা, গুজব বা সন্দেহজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে দ্রুত থানার পুলিশ ও প্রশাসনকে জানানোর পাশাপাশি স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ এবং পূজা উদযাপন পরিষদের নেতাদের অবহিত করার আহ্বান জানানো হয়।
সভায় বাঘারপাড়া পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান মিন্টু, জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের পূজা উদযাপন পরিষদের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন। তাঁরা নিজ নিজ এলাকার পূজামণ্ডপের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি তুলে ধরেন।
পূজা উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকে ধর্মীয় অনুষ্ঠানের পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পূজামণ্ডপে ডিজে বা অশালীন গান না বাজানো এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করতে পারে—এমন কোনো গান বা কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে ধর্মীয় গান পরিবেশনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধেরও প্রতীক। তাই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে দল-মত ও ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, পূজা উদযাপনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তার কোনো ঘাটতি রাখা হবে না। প্রতিটি মণ্ডপের নিরাপত্তায় পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি মণ্ডপ কমিটিগুলোকে নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন করে সার্বক্ষণিক সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় উপস্থিত রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও পূজা উদযাপন পরিষদের প্রতিনিধিরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা সম্পন্ন করতে প্রশাসনকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।





















