ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫ , ৮:২৯:৩৩ প্রিন্ট সংস্করণ
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাইকেরছড়া গ্রামের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ছয় বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে একই এলাকার ৫০ ঊর্ধ্ব বয়সী বিশু মিয়ার বিরুদ্ধে। গত নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে এ নেক্কারজনক ঘটনাটি ঘটে বলে জানিয়েছে ভুক্তভোগীর পরিবার।
স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার দিন অভিযুক্ত বিশু মিয়া জলপাই দেওয়ার কথা বলে শিশুটিকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। বাড়িতে কেউ না থাকায় তিনি শিশুটির প্যান্ট খুলে শুইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় শিশুটি চিৎকার করলে অভিযুক্ত তাকে ছেড়ে দেয় এবং কাউকে কিছু না বলতে ৫ টাকা দেয়। শিশুটি টাকা ফেলে ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে বাড়িতে এসে দাদি ও মায়ের কাছে সব খুলে বলে।
অভিযুক্ত বিশু মিয়া শিশুটির বাবার সম্পর্কে চাচা, অর্থাৎ ঘনিষ্ঠ আত্মীয় বলে জানা গেছে। ভুক্তভোগী পরিবারটি অত্যন্ত দরিদ্র ও অসহায় হওয়ায় এবং ঘটনার সময় শিশুটির বাবা বাড়িতে না থাকায় সামাজিক সম্মানহানির ভয় দেখিয়ে শিশুটির মাকে মামলা না করতে চাপ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি মামলা না করে গ্রাম্য সালিসের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার আশ্বাস দেন। পরে পাইকেরছড়া ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ চান মিয়ার বাড়িতে একটি শালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী, ইউনিয়নের সাবেক সদস্য নুরু, বর্তমান সদস্য জাহাঙ্গীর আলম হ্যাপি এবং মহিলা সদস্য শিউলি খাতুন উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
শালিসে অনেকেই অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানালেও একটি জুরি বোর্ড গঠন করে বিশু মিয়াকে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ভুক্তভোগী পরিবার এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে আইনগত বিচার দাবি করলে অভিযুক্তকে জুতাপেটা করা হয়। পরে স্থানীয় চাপের মুখে শিশুটির বাবা আপোষে বাধ্য হন বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরবর্তীতে পরিবারটি জরিমানার টাকা নিতে রাজি না হওয়ায় অভিযুক্তের কাছ থেকে আদায় করা ৭০ হাজার টাকা এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসনের কাজে ব্যয় করা হয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে জানানো হয়। এদিকে পুরো ঘটনা ধামাচাপা দিতে প্রায় ৫ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে বলে এলাকায় গুঞ্জন ছড়িয়েছে।
ভুক্তভোগী শিশুটি জানায়, সে চায় পুলিশ অভিযুক্ত বিশুকে ধরে নিয়ে উপযুক্ত শাস্তি দিক। শিশুটির মা ও দাদি বলেন, “আমরা কোনো টাকা নেইনি, আমরা বিচার চেয়েছি। এখন আমাদের বড় মেয়েকে জড়িয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এতে আমাদের মানসম্মান ধ্বংস হয়ে গেছে।”
এ বিষয়ে অভিযুক্তের স্ত্রী অভিযোগ অস্বীকার করে কোনো মন্তব্য না করে চলে যান।
গ্রাম পুলিশ চান মিয়া জানান, তিনি থানায় অভিযোগ করতে বলেছিলেন। পাঁচ লাখ টাকা লেনদেনের গুঞ্জনের কথা তিনি শুনেছেন, তবে কারা নিয়েছে জানেন না।
ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য জাহাঙ্গীর আলম হ্যাপি বলেন, ধর্ষণের চেষ্টা হয়েছে—এমন অভিযোগ শোনা গেছে, তবে বিচার প্রক্রিয়া সঠিক না হওয়ায় তিনি জুরি বোর্ডে ছিলেন না।
পাইকেরছড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “ধর্ষণের মতো অপরাধের বিচার গ্রাম্য সালিসে হওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। এটি আদালতের বিষয়।”
এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসী দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।




















