নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা ৪ এপ্রিল ২০২৬ , ২:৪০:২০ প্রিন্ট সংস্করণ
রাজধানীর অভিজাত এলাকা থেকে অলিগলি—সবখানেই বিচরণ তার। কখনও সিএনজি অটোরিকশার চালক, কখনও মোটরসাইকেলে রাইড শেয়ারিং সেবার ‘রাইডার’। তবে এই পরিচয়ের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক চতুর মাদক কারবারি। অপরাধ জগতে তিনি পরিচিত ‘বরিশাইল্লা মানিক’ নামে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়াতে রাইড শেয়ারিং সেবাকে ব্যবহার করছে ইয়াবা ‘হোম ডেলিভারি’র হাতিয়ার হিসেবে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, মানিকের মাদক নেটওয়ার্ক বিস্তৃত গুলশান, বনানী, মহাখালী, দক্ষিণখান ও নাখালপাড়া এলাকায়। যাত্রী পরিবহনের আড়ালে নির্দিষ্ট গ্রাহকের কাছে ইয়াবা পৌঁছে দেয় সে। সম্প্রতি মাদক ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরা এক যুবক তার এই কৌশলের চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছেন।
পুলিশ সূত্র জানায়, মানিকের বিরুদ্ধে বাড্ডা ও বনানী থানায় একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। বারবার গ্রেপ্তার হলেও জামিনে মুক্ত হয়ে পুনরায় একই কাজে জড়িয়ে পড়ে সে।
এক ভুক্তভোগী জানান, সন্দেহ এড়াতে দিনের বেশিরভাগ সময় সে রাইড শেয়ারিং অ্যাপ চালু রাখে অথবা অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় থাকে। ফোনকল বা সংকেতের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট পয়েন্টে গিয়ে ইয়াবা সরবরাহ করে।
মাদকবিরোধী কার্যক্রমে যুক্ত বিশেষজ্ঞ ও সমাজকর্মীরা এই প্রবণতাকে উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছেন। মাদক আইন বিশেষজ্ঞ অ্যাডভোকেট রাইহানুল ইসলাম বলেন,“পরিবহন খাতের আড়ালে মাদক ব্যবসা নতুন নয়, তবে রাইড শেয়ারিংয়ের মতো জনপ্রিয় সেবাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করাটা ভয়াবহ। এতে সাধারণ চালকরাও সন্দেহের মধ্যে পড়ছেন। এ ধরনের ‘হোম ডেলিভারি’ বন্ধে গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি অ্যাপ কর্তৃপক্ষকে চালকদের ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাইয়ে আরও কঠোর হতে হবে।”
এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,“মাদক কারবারিরা প্রতিনিয়ত কৌশল পরিবর্তন করছে। সিএনজি বা রাইডারের বেশে ইয়াবা পাচারের তথ্য আমাদের কাছেও রয়েছে। বরিশাইল্লা মানিকসহ এ ধরনের চক্রকে ধরতে বিশেষ অভিযান চলছে। রাজধানীর প্রবেশপথ ও সন্দেহভাজন এলাকায় তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অব্যাহত থাকবে।”
সহজলভ্যতার কারণে ঘরে বসেই মাদক পাচ্ছে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী ও তরুণরা। বনানী ও দক্ষিণখান এলাকার সচেতন অভিভাবকদের অভিযোগ, ভ্রাম্যমাণ এই মাদক সরবরাহকারীদের কারণে কিশোর গ্যাং ও অপরাধ প্রবণতা বাড়ছে।
মানিকের মতো চক্রের সদস্যদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।




















