প্রচ্ছদ » প্রচ্ছদ » শিক্ষার্থীদের হাতে ইবি ছাত্রলীগ নেতা আটক, থানায় সোপর্দ
শিক্ষার্থীদের হাতে ইবি ছাত্রলীগ নেতা আটক, থানায় সোপর্দ
ইবি প্রতিনিধি: ১৩ মে ২০২৫ , ১১:৪৪:৩১প্রিন্ট
সংস্করণ
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ‘নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন’ ছাত্রলীগের এক নেতাকে আটক করেছে শিক্ষার্থীরা। সোমবার (১২ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। পরে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিকিউরিটি অফিসারদের সহায়তায় ইবি থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।
আটককৃত ছাত্রলীগ নেতা সাইমুম খান বিশ্ববিদ্যালয়ের হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কৃষিশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক।
এর আগে ২০২৪ সালে ৫ জুন ওই ছাত্রলীগ নেতা ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের খাইরুল ইসলাম সৌরভকে বেয়াদবি করার অভিযোগ এনে হলে ডেকে নিয়ে ছাদ থেকে নিচে ফেলে দেওয়ার হুমকি দেয়। পরে ভুক্তভোগী তৎকালীন প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহাদাৎ হোসেন আজাদ বরাবর অভিযোগ দায়ের করেন। তবে ছাত্রলীগ নেতাদের চাপে বিষয়টির সুরাহা হয়নি বলে দাবি ভুক্তভোগীর।
এদিকে সোমবার সন্ধ্যার পর ছাত্রলীগের ওই নেতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে থাকার খবর পেয়ে ভুক্তভোগী সৌরভসহ অন্যরা তাকে হাতেনাতে ধরে ও পরবর্তীতে থানায় সোপর্দ করে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ‘সাইমুম ২০২৪ সালের ৫ জুন সন্ধ্যা ৭টা ১৩মিনিটে কথা বার্তার অযুহাতে তৎকালীন শেখ রাসেল হল, বর্তমানে শহিদ আনাস হলের ছাদে ডেকে নিয়ে যায় সৌরভকে। পরে জেরা করার এক পর্যায়ে ছাদ থেকে ফেলে প্রাণনাশের হুমকি এবং মারধর করে ওই ছাত্রলীগ নেতা। পরবর্তীতে সে সিঁড়ি দিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে ধাক্কা দিয়ে সিঁড়িতে ফেলে দেয়। ফলে ভুক্তভোগী সৌরভ হাত-পায়ে আঘাত প্রাপ্ত হয় এবং রক্তক্ষরণ হয়।’ এই ঘটনার প্রমাণ স্বরুপ ওইদিন রাতের একটি ১১ মিনিট ০৫ সেকেন্ডের একটি অডিও ক্লিপ প্রতিনিধির হাতে এসেছে।
অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা সায়মুম বলেন, আমি সনদ পত্র তুলতে এসেছি। ক্যাম্পাসের ভিতরে প্রবেশ করিনি। বাইরে বসে ছিলাম, হঠাৎ করে এমন আক্রমণ। আমি সঠিক জানি না তারা কেনো এমন করেছে।
ভুক্তভোগী সৌরভ বলেন, ‘ওর গার্লফ্রেন্ড আমার বিভাগে পড়ে আমার বান্ধবী, তার সাথে একদিন আমি ঘুরেছিলাম। যে কারণে সে আমাকে ডাকে এবং ছাদে নিয়ে মারধর করে ও ছাদ থেকে ফেলে দেওয়ার হুমকি দেয়। আমি অনেক কষ্টে তখন পালিয়ে আসি।
এই বিষয়ে ইবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা ওই ছেলেকে আমাদের হাতে সোপর্দ করে। আমরা জানতে পেরেছি সে (সায়মুম খান) নিষিদ্ধ ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের পোস্টেড নেতা। ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ডে জড়িত দেখিয়ে আগামীকাল তাকে কোর্টে চালান করা হবে।