সারাদেশ

হিমেল হাওয়া ও কনকনে শীতে রাজশাহীতে জনজীবন বিপর্যস্ত

  মো. গোলাম কিবরিয়া , রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ , ১০:২৫:০৭ প্রিন্ট সংস্করণ

 

হিমেল হাওয়া ও কনকনে শীতে রাজশাহীর মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন ছিন্নমূল, খেটে খাওয়া মানুষ, শিশু ও বয়স্করা। তীব্র শীতের কারণে দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের মানুষজন দীর্ঘ সময় মাঠে কাজ করতে পারছেন না। অথচ কাজে না গেলে জোটে না দুই মুঠো খাবার। ফলে বাধ্য হয়েই ঝুঁকি নিয়ে শীতে কাজের খোঁজে বের হতে হচ্ছে তাদের।

গত সপ্তাহের শুরু থেকেই শিক্ষানগরী রাজশাহী ও আশপাশের উপজেলাগুলোতে শীতের প্রকোপ শুরু হয়। তবে গত তিন-চার দিন ধরে শীতের তীব্রতা অনেকটাই বেড়েছে। সকাল থেকে দিনভর সূর্যের দেখা মিলছে না। কখনো অল্প সময়ের জন্য সূর্য দেখা দিলেও তা স্থায়ী হচ্ছে না। কুয়াশার সঙ্গে বইছে হিমেল হাওয়া, যা শীতের অনুভূতি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। রাতের পাশাপাশি দিনের বেলাতেও কনকনে ঠান্ডায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

নগরীর ফুটপাত, রেলস্টেশন ও বাসস্ট্যান্ডে আশ্রয় নিয়েছেন বহু ছিন্নমূল মানুষ। শীতবস্ত্র, নিরাপদ আশ্রয় ও পর্যাপ্ত খাবারের অভাবে তাদের জীবনযাপন হয়ে উঠেছে চরম অনিশ্চিত ও কষ্টকর। ভোরের আলো ফোটার আগেই যখন নগরের ব্যস্ত এলাকায় মানুষ কোট-সোয়েটারে নিজেদের ঢেকে নিচ্ছেন, তখন ফুটপাতে থাকা মানুষগুলো পুরোনো কাপড়, বস্তা কিংবা পলিথিন গায়ে জড়িয়ে ঠান্ডা ঠেকানোর চেষ্টা করছেন।

নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ছিন্নমূল মানুষজন দলবেঁধে আগুন জ্বালিয়ে শরীর গরম রাখার চেষ্টা করছেন। এতে সাময়িক স্বস্তি মিললেও দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। কোথাও কোথাও পথচারীদের দেওয়া পুরোনো কাপড়ই তাদের একমাত্র ভরসা। শীত যত দীর্ঘ হচ্ছে, ততই বেড়ে চলেছে তাদের দুর্ভোগ। মানবিক উদ্যোগ ও সংগঠিত সহায়তা ছাড়া এই মানুষগুলোর শীত পার করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

রেললাইনের ধারে বসবাসকারী এক নারী বলেন,“গরমের সময় যেখানে-সেখানে থাকা যায়। কিন্তু ঠান্ডায় ছোট বাচ্চা নিয়ে ভীষণ সমস্যায় পড়েছি। নিজের কষ্ট সহ্য করলেও বাচ্চার কষ্ট সহ্য করতে পারছি না। আমাদের এখন গরম কাপড় খুব দরকার।”

রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন ও বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা গেছে, ছিন্নমূল মানুষ ও পথশিশুরা গরম কাপড় ছাড়াই ঠান্ডার মধ্যে জড়োসড়ো হয়ে শুয়ে আছেন। কেউ কেউ পলিথিন কিংবা ছেঁড়া চাদর গায়ে দিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। তুলনামূলক উষ্ণ জায়গা দখলকে কেন্দ্র করে কোথাও কোথাও নিজেদের মধ্যে বাকবিতণ্ডাও হচ্ছে।

এক বৃদ্ধ নারী বলেন,“আমি পেটের দায়ে এই শহরে ভিক্ষা করি। শীতের কারণে এখন ভিক্ষা করতেও পারছি না। আমাদের গরম কাপড়ের খুব প্রয়োজন।”

রিকশাচালক বাইরুল ইসলাম বলেন,“অন্য সময় ভোর হলেই রিকশা নিয়ে বের হই। কিন্তু শীত বেশি পড়ায় আগের মতো বের হতে পারছি না। বের হলেও বেশিক্ষণ রাস্তায় থাকা যায় না। আবার কাজ না করলে পরিবার চালানোও সম্ভব না।”

রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক তারেক আজিজ জানান, ২৬ ডিসেম্বর রাজশাহীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ ছিল ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ২৭ ডিসেম্বর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০ দশমিক ৮ ডিগ্রি এবং সর্বোচ্চ ২০ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রোববার (২৮ ডিসেম্বর) সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগামী দিনে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে বলে জানান তিনি।

রাজশাহী জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আব্দুল হাই সরকার বাসসকে জানান, রাজশাহী মহানগরসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও পৌরসভায় এ পর্যন্ত সাড়ে ২৭ হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া আরও কম্বল কেনার জন্য ৪২ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এই অর্থ দিয়ে দ্রুত কম্বল কিনে বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।

আরও খবর

Sponsered content