প্রতিনিধি ২৬ জুলাই ২০২৫ , ৮:০০:৪১ প্রিন্ট সংস্করণ
নোয়াখালী প্রতিনিধি:
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে নোয়াখালীর উপকূলীয় অঞ্চলসহ দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার মেঘনা নদীতে অস্বাভাবিক জোয়ার প্রবাহিত হচ্ছে। এতে করে জেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে, নদী ভাঙনের মুখে পড়েছে শতাধিক বসতবাড়ি ও দোকানপাট। বিশেষ করে নিঝুমদ্বীপের প্রধান সড়ক, বাজার ও গ্রামীণ এলাকার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
শনিবার (২৬ জুলাই) বিকেল পর্যন্ত হাতিয়া উপজেলার টাংকির ঘাট ও চেয়ারম্যানঘাট এলাকায় নদী ভাঙনের তীব্রতা বাড়ায় অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
এর আগে শুক্রবার সকালেই জোয়ারের পানিতে নিঝুমদ্বীপের প্রধান সড়ক ও নামার বাজার এলাকা সম্পূর্ণ তলিয়ে যায়। বাজারের দোকানে পানি ঢুকে ব্যবসায়ীদের ব্যাপক ক্ষতির মুখে ফেলে। একই সঙ্গে বিভিন্ন পুকুরের মাছ ভেসে যায় এবং কৃষিজমিতে পানি উঠে ফসলের ক্ষতি হয়।
প্লাবিত হয়েছে উপজেলার নলচিরা, সোনাদিয়া ও সুখচর ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রাম। এসব এলাকায় বসবাসকারী হাজারো পরিবার চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। নিঝুমদ্বীপ জাতীয় উদ্যানের হরিণসহ অন্যান্য বন্য প্রাণীও ঝুঁকির মুখে রয়েছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন পরিবেশবিদরা।
হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলাউদ্দিন জানান, “সুখচর ও সোনাদিয়া ইউনিয়নের বেশ কিছু অংশ, নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম ২ থেকে ৩ ফুট পানির নিচে। সুখচরে একটি বেড়িবাঁধ ভেঙে গিয়ে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। নলচিরা ইউনিয়নের কিছু অংশে নদী ভাঙনের মুখে ঘরবাড়ি ও দোকানপাট সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। আজ বিকেলে নদীর অবস্থা কিছুটা উন্নত হওয়ায় কিছু রুটে বোট চলাচল শুরু হয়েছে।”
অন্যদিকে নোয়াখালী জেলা শহর মাইজদীতেও জলাবদ্ধতা চরম আকার ধারণ করেছে। পৌর এলাকার ড্রেন ও খালে ময়লা-আবর্জনা জমে থাকার কারণে পানি নামতে পারছে না, ফলে বিভিন্ন সড়ক ও পাড়া-মহল্লায় পানি জমে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
জেলা আবহাওয়া কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম জানান, “বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে দমকা হাওয়া ও গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নোয়াখালীতে ৫১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। উপকূলীয় এলাকায় মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।”
এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে নজরদারি ও জরুরি সহায়তা কার্যক্রম শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে হাতিয়া উপজেলা প্রশাসন।




















