মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি: ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ , ৩:২৭:২০ প্রিন্ট সংস্করণ
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার শাহজাহানপুর ইউনিয়নের তেলমাছড়া সংরক্ষিত বনাঞ্চলের বিট কর্মকর্তা মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে গাছ পাচার, দুর্নীতি, গাঁজা সেবনসহ নানা অনিয়মের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। একই অফিসের ফরেস্টগার্ড সাদিকুর রহমান এসব অভিযোগ প্রকাশ করেছেন।
সম্প্রতি প্রতিবেদকের কাছে ১ মিনিট ৫২ সেকেন্ড দৈর্ঘ্যের একটি অডিও রেকর্ড আসে, যেখানে ফরেস্টগার্ড সাদিকুর রহমান অভিযোগ করেন— মেহেদী হাসান পূর্বে কক্সবাজারে কর্মরত অবস্থায় ৮৫ লাখ টাকা রাজস্ব আত্মসাৎ করেছিলেন, এজন্য তিনি দীর্ঘ দুই বছর ওএসডি ছিলেন। বর্তমানে তেলমাছড়া বনাঞ্চল থেকে তিনি নিয়মিতভাবে গাছ পাচার করছেন। স্থানীয় কাঠ ব্যবসায়ীদের সহায়তায় একাধিকবার ট্রাকে ভরে সেগুন গাছ পাচারের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
অভিযোগকারী সাদিকুর রহমান দাবি করেন, এসব অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় তাকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে পার্বত্য এলাকায় বদলি করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, মেহেদী হাসানের সরকারি বাসভবনে নিয়মিত গাঁজা সেবন হয় এবং সেটি গাঁজা সেবনের হটস্পটে পরিণত হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থা ও চোখ-মুখের চেহারা থেকেই বিষয়টি স্পষ্ট বোঝা যায়।
এছাড়া মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে বন্যপ্রাণী পাচারের অভিযোগও তোলা হয়েছে। সম্প্রতি তেলমাছড়া বনাঞ্চল থেকে ভালুকের বাচ্চা পাচারের অভিযোগ ওঠে। সাংবাদিকরা সাতছড়ি উদ্যানে গাছ পাচারের সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে যে হামলার ঘটনা ঘটে, তাতেও তার নাম উঠে এসেছে। এমনকি ওই ঘটনায় বন বিভাগ কর্তৃক দায়ের করা মামলার ২ নং সাক্ষী ছিলেন তিনি।
অভিযোগ আরও রয়েছে, স্থানীয় কাঠ ব্যবসায়ী মোনায়েম তাকে ঘুষ হিসেবে প্রায় এক লাখ টাকার খাট দিয়েছেন, যার বিনিময়ে গাছ কাটার অনুমতি মেলে।
যোগাযোগ করা হলে বিট কর্মকর্তা মেহেদী হাসান অভিযোগগুলো অস্বীকার করে বলেন, “সাদিকুর রহমানের মাথা ঠিক নেই। সে যা-তা বলে। এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।”
এ বিষয়ে সিলেটের বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) আবুল কালাম বলেন, “অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুতর। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”




















