প্রতিনিধি ২৯ আগস্ট ২০২৫ , ১০:৪১:৩৭ প্রিন্ট সংস্করণ
বাংলাদেশি অভিনেত্রী ও উন্নয়নকর্মী ড. রাফিয়াথ রশিদ মিথিলাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসংখ্য মন্তব্য প্রমাণ করে—আমাদের সমাজ এখনো নারীকে ব্যক্তিত্ববান মানুষ হিসেবে নয়, বরং পুরুষের সঙ্গে সম্পর্কের প্রেক্ষিতে বিচার করে।
মিথিলার একমাত্র “অপরাধ” মনে করা হচ্ছে, তিনি একজন আদর্শ ও ভদ্র পুরুষ তাহসানের সঙ্গে সংসার টিকিয়ে রাখতে পারেননি। অথচ তাহসান নিজেও কখনো প্রাক্তন স্ত্রীকে নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করেননি। তাদের বিচ্ছেদ ছিল পারস্পরিক সিদ্ধান্তের ফল, যা ব্যক্তিগত কারণেই সীমাবদ্ধ থেকেছে। তবু, তাহসানকে ভদ্রলোক বলে শ্রদ্ধা করা হলেও, তাকে অনুসরণ করা অনেকেই মিথিলাকে আক্রমণ করার সুযোগ মিস করেন না।
আমাদের সমাজের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো—নারীর ব্যক্তিগত জীবনকে কুরুচিপূর্ণ আলোচনার খোরাক বানানো। ডিভোর্স হলেই ধরে নেয়া হয় নারী নিশ্চয়ই পরকীয়ায় জড়িয়েছেন। অথচ মিথিলার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ না তাহসান করেছেন, না অন্য কোনো প্রমাণ এসেছে। এরপরও কেবল মিথিলাই সমালোচিত হয়েছেন, যদিও একই ঘটনার অপর পুরুষ চরিত্ররা অব্যাহতি পেয়েছেন। ব্যক্তিগত ছবি ফাঁস করাও যে গুরুতর সাইবার অপরাধ, তা যেন মানুষের দৃষ্টির বাইরে।
পরে মিথিলার দোষ হলো—তিনি হিন্দু, বয়সে বড় চলচ্চিত্র নির্মাতা সৃজিত মুখার্জিকে বিয়ে করেছেন। অথচ একই সমাজে শাকিব খানের একাধিক বিয়ে, সন্তানের খবর গোপন করাও জনপ্রিয়তার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। গায়ক অর্ণবও হিন্দু মেয়েকে বিয়ে করেছেন, তাহসানও সম্প্রতি তরুণীকে বিয়ে করেছেন—এসব নিয়ে কারও আপত্তি নেই। আপত্তি কেবল মিথিলার বিয়ে নিয়েই।
যা অবহেলিত থেকে যায় তা হলো—মিথিলার দায়িত্বশীল মাতৃত্ব, উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকে সফল কর্মজীবন, অভিনয়ে আগের চেয়ে দক্ষতা, গোল্ড মেডেলসহ একাডেমিক সাফল্য, এবং সর্বশেষ পিএইচডি অর্জন। অথচ এসব অর্জন যেন তুচ্ছ হয়ে যায়, কারণ তিনি নারী। আমাদের পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতায় নারীর সর্বোচ্চ অর্জন এখনো “সংসার টিকিয়ে রাখা”।
এদেশে পুরুষদের যত ভুল–ত্রুটি সহজেই ক্ষমা হয়ে যায়, কিন্তু নারীদের জন্য অপেক্ষা করে গালাগাল, চরিত্রহনন আর আজীবন কলঙ্কের বোঝা। পাবলিক নিউজ পোর্টালের কমেন্ট সেকশনগুলো সেই অসাম্যর নগ্ন উদাহরণ।
মিথিলার সাফল্য প্রমাণ করে—নারী সৌন্দর্য, মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে যেকোনো ক্ষেত্রে আলোকিত হতে পারেন। তাকে অভিনন্দন ও শুভকামনা। তিনি নিজের জীবনের মতোই নিজের ভুল–শুদ্ধ সিদ্ধান্তের অধিকারী। সমাজ যদি নারীকে সমান মর্যাদায় বিচার করতে শেখে, তবে সত্যিকারের উন্নয়ন সম্ভব হবে।














