সম্পাদকীয়

সাতছড়িতে গাছ পাচার: সাংবাদিকের বিরুদ্ধে বন বিভাগের চাঁদাবাজির মামলা, সাংবাদিক মহলে ক্ষোভ

  মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ , ২:৩৮:১১ প্রিন্ট সংস্করণ


হবিগঞ্জের সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে কোটি টাকার সেগুন গাছ পাচারের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে বন কর্মকর্তাদের হামলার শিকার হওয়া সাংবাদিক মুজাহিদ মসির বিরুদ্ধে এবার চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেছে বন বিভাগ। এ ঘটনায় জেলার সাংবাদিক ও সচেতন মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।

বন বিভাগের পক্ষ থেকে হবিগঞ্জের সাতছড়ি রেঞ্জের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ বাদী হয়ে গত বুধবার চুনারুঘাট থানায় মামলাটি করেন।

 গত শনিবার দৈনিক কালবেলার সাংবাদিক ও ওয়াইল্ডলাইফ এক্টিভিস্ট মুজাহিদ মসি এবং বাংলা টাইমসের হবিগঞ্জ প্রতিনিধি ত্রিপুরারী দেবনাথ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাতছড়ি উদ্যানে গিয়ে সেগুন পাচারের আলামতের ভিডিও ধারণ করেন। এ সময় রেঞ্জ কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ ও জুনিয়র ওয়ার্ল্ডলাইভ স্কাউট নূর মোহাম্মদসহ কয়েকজন তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান।

পরে ওই দুই সাংবাদিক থানায় মামলা দায়ের করেন। জেলা প্রশাসকসহ বন মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সেগুন গাছ কাটা ও পাচারের সত্যতা পান। অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটিও করা হয়।

কিন্তু ঘটনার পরও সাংবাদিক মুজাহিদ মসির বিরুদ্ধে উল্টো ৫০ হাজার টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা দায়ের করেন মামুনুর রশিদ।

   ঘটনায় হবিগঞ্জের বিভিন্ন প্রেসক্লাবের নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের নেতা ও আইনজীবী শাহ ফখরুজ্জামান বলেন— “মুজাহিদ মসি শুধু সাংবাদিকই নন, তিনি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ নিয়েও কাজ করেন। সাতছড়িতে গাছ পাচারের চাঞ্চল্যকর তথ্য তিনি প্রকাশ্যে এনেছেন। অথচ তাকে উল্টো মিথ্যা মামলায় জড়ানো হলো। এতে পুলিশ ও বন বিভাগের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা কমবে।”রেঞ্জ কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ বলেন— “আমি আমার ডিএফও মহোদয়ের নির্দেশক্রমে মামলা করেছি। সীমিত লোকবল দিয়ে বিশাল বন রক্ষা করা কঠিন। কিছু গাছ চুরি বা পাচার হলেও হতে পারে।”তবে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) আবুল কালাম সাংবাদিকদের জানান, মামুনুর রশিদ তার সঙ্গে আলোচনা না করেই মামলা করেছেন। বরং সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

চুনারুঘাট থানার ওসি নুর আলম বলেন, “চাঁদাবাজির মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে।” তবে সাংবাদিক হামলা মামলায় আসামি থাকা সত্ত্বেও মামুনুর রশিদ কীভাবে বাদী হলেন—প্রশ্ন করা হলে তিনি ফোন কেটে দেন।

প্রসঙ্গত, রেঞ্জ কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ সাংবাদিক হামলা মামলার প্রধান আসামি। সাতছড়ি উদ্যান থেকে গাছ ও বন্যপ্রাণী পাচার এবং পেশাগত অসদাচরণের একাধিক অভিযোগও তার বিরুদ্ধে রয়েছে। এসব নিয়ে গণমাধ্যমে আগেও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

আরও খবর

Sponsered content