সারাদেশ

সুন্দরবনের ৫ বাহিনীর ৫৯ জলদস্যুর আত্মসমর্পণ, অস্ত্র-গুলি ও ওয়াকিটকি উদ্ধার

  প্রতিনিধি ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ৬:৫১:১৫ প্রিন্ট সংস্করণ

সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত রাখতে র‌্যাবের ধারাবাহিক অভিযানের মধ্যে পাঁচটি সক্রিয় জলদস্যু বাহিনীর ৫৯ সদস্য আত্মসমর্পণ করেছেন। এছাড়া সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় তিন দিনের অভিযানে ৫৯টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৫৪১ রাউন্ড তাজা গুলি ও ১৪টি খালি কার্তুজ উদ্ধার করেছে র‌্যাব। আজ বুধবার সকালে খুলনায় র‌্যাব-৬ সদর দপ্তরে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান র‌্যাবের মহাপরিচালক অতিরিক্ত আইজিপি মো. আহসান হাবীব পলাশ।

গত সোমবার আত্মসমর্পণকারী ৫৯ জনের মধ্যে বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ১৬ জন, আনারুল বাহিনীর ১৩ জন, আফজাল ওরফে দুলাভাই বাহিনীর ১৫ জন, আফতাব বাহিনীর ৮ জন এবং মিজান বাহিনীর ৭ জন রয়েছেন।

বিপুলসংখ্যক দস্যুর আত্মসমর্পণ ও অস্ত্র উদ্ধারে সুন্দরবনে সক্রিয় দস্যু চক্রের সাংগঠনিক সক্ষমতায় বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে বলে মনে করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

র‌্যাব ডিজি বলেন, ‘দস্যুতার পথ ছেড়ে বাকি জলদস্যুরাও আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসুন। আত্মসমর্পণকারীদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে। তবে অপরাধের পথ অব্যাহত রাখলে তাদের কঠোর আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, সুন্দরবন ও উপকূলীয় মানুষের নিরাপত্তায় র‌্যাবের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অব্যাহত থাকবে।

র‌্যাবের অভিযানে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে চারটি শর্টগান, ৪৭টি ওয়ান শুটারগান, চারটি পাইপগান, তিনটি এয়ারগান ও একটি পয়েন্ট ২২ বোর রাইফেল। এছাড়া সাতটি ওয়াকিটকিও উদ্ধার করা হয়েছে।

সুন্দরবনে দস্যু দমনে র‌্যাব, কোস্ট গার্ড, স্থানীয় প্রশাসন, নৌ-পুলিশ ও বন বিভাগের সমন্বয়ে ‘অপারেশন রি-স্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ পরিচালিত হচ্ছে। গত ২ মার্চ থেকে র‌্যাব ধারাবাহিক অভিযান জোরদার করার পর দস্যুদের একটি অংশ অপরাধের অনিশ্চিত জীবন ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আগ্রহ দেখায়। এরই ধারাবাহিকতায় গত সোমবার পাঁচ বাহিনীর ৫৯ সদস্য আত্মসমর্পণ করেন।

র‌্যাবের তথ্য, আশির দশক থেকে সুন্দরবন ও উপকূলীয় এলাকায় জলদস্যুতার কারণে জেলে, মৌয়াল, বাওয়ালি ও বনজীবীরা জিম্মি, নির্যাতন ও চাঁদাবাজির শিকার হয়ে আসছেন। সুন্দরবনকে ঘিরে প্রায় ২৫ লাখ মানুষের জীবন-জীবিকা নির্ভরশীল হওয়ায় দস্যু দমনকে শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়, উপকূলীয় অর্থনীতি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার অংশ হিসেবেও দেখছে র‌্যাব।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে র‌্যাব ডিজি জানান, ২০১৮ সালে ৩২৮ জন বনদস্যু আত্মসমর্পণ করলেও তাদের মধ্যে ৩০ জন পরবর্তী সময়ে আবার দস্যুতায় জড়িয়েছিলেন। ভবিষ্যতে আত্মসমর্পণকারীরা যাতে পুনরায় অপরাধে না ফেরেন, সে জন্য তাদের সামাজিকভাবে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে গতকাল থেকে সুন্দরবন পর্যটক ও বনজীবীদের জন্য উন্মুক্ত হয়েছে। এর ঠিক আগে ৫৯ জলদস্যুর আত্মসমর্পণ এবং বিপুল অস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধারের ঘটনায় সুন্দরবনের নিরাপত্তা জোরদারে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে বলে মনে করছে র‌্যাব।

সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) ইফতেখার আহমেদ ও র‌্যাব-৬-এর পরিচালক নিস্তার আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

আরও খবর

Sponsered content