সারাদেশ

মনোনয়ন যাচাইয়ে ঘুষের অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’: সিলেট জেলা প্রশাসক

  নাহিম মিয়া, স্টাফ রিপোর্টার (সিলেট): ৮ জানুয়ারি ২০২৬ , ১২:৫১:০৮ প্রিন্ট সংস্করণ

 

সিলেটে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইকে কেন্দ্র করে পক্ষপাতিত্ব ও ঘুষ লেনদেনের অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মন্তব্য করেছেন সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। তিনি বলেন, “১০ কোটি কেন, ১০ হাজার কোটি টাকা দিয়েও আমাকে কেনা যাবে না।”

বুধবার (৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সিলেট জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব বা লেনদেনের প্রশ্নই আসে না। এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তিনি নিজেই চাকরি ছেড়ে দিতে প্রস্তুত রয়েছেন। তিনি জানান, সম্প্রতি দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত কারণে কয়েকজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হওয়াকে কেন্দ্র করে একটি পক্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রশাসনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ানো হচ্ছে যে, এক প্রার্থীর কাছ থেকে ১০ কোটি টাকা ঘুষ নিয়ে মনোনয়ন বৈধ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এসব অভিযোগ জনমনে বিভ্রান্তি ও হতাশা সৃষ্টি করছে এবং নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা মাত্র।

দ্বৈত নাগরিকত্ব প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক বলেন, সংবিধানের বিধান অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি যদি বিদেশি কোনো দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন, তাহলে তিনি সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্য নন। সিলেটে তিনজন প্রার্থীর দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত বিষয় যাচাই করা হয়েছে। এর মধ্যে একজন প্রার্থী দাবি করেছেন যে তিনি বিদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন, তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নাগরিকত্ব ত্যাগের বৈধ ও গ্রহণযোগ্য কোনো ডকুমেন্ট জমা দিতে পারেননি।

তিনি আরও বলেন, “নাগরিকত্ব ত্যাগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের ইমিগ্রেশন বা হোম অফিসের স্বীকৃত ডকুমেন্ট কিংবা বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রদত্ত রসিদ প্রয়োজন। প্রার্থী সেটি দিতে ব্যর্থ হওয়ায় আইন অনুযায়ী আমাদের বাধ্য হয়ে মনোনয়ন বাতিল করতে হয়েছে। এখানে পক্ষপাতিত্বের কোনো সুযোগ নেই।”

ঘুষের অভিযোগ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক দৃঢ়কণ্ঠে বলেন, “১০ কোটি টাকা তো দূরের কথা, কেউ যদি এক টাকা ঘুষ দেওয়ারও প্রমাণ দিতে পারে, তাহলে আমি সঙ্গে সঙ্গে চাকরি ছেড়ে দেব এবং সর্বোচ্চ শাস্তি মাথা পেতে নেব। এটি একটি ভয়ংকর ফেক নিউজ।”

তিনি বলেন, একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে এবং নির্বাচন নিয়ে মানুষের মধ্যে সন্দেহ তৈরি করতে এসব মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে। এ ধরনের অপপ্রচার দিয়ে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনকে ব্যাহত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

পক্ষপাতিত্ব ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ নাকচ করে জেলা প্রশাসক বলেন, “দশ কোটি নয়, দশ হাজার কোটি টাকা দিয়েও সারওয়ার আলমকে কেউ কিনতে পারবে না।” তিনি জনগণকে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, নির্বাচনে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের সুযোগ দেওয়া হবে না।

তিনি আরও বলেন, প্রশাসন যে কোনো মূল্যে একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে বদ্ধপরিকর। একই সঙ্গে সাংবাদিক ও সাধারণ জনগণের সহযোগিতা কামনা করেন এবং ফেক নিউজ ছড়ানো থেকে সবাইকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।

এ ছাড়া যারা ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনাধীন রয়েছে বলেও জানান জেলা প্রশাসক।

আরও খবর

Sponsered content