প্রতিনিধি ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ৪:০০:১২ প্রিন্ট সংস্করণ
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) দেশের ক্রিকেট কাঠামোর পুনঃমূল্যায়ন শুরু করেছে। সংস্থাটি অনূর্ধ্ব-২৩ এর জন্য ন্যাশনাল ক্রিকেট অ্যাকাডেমি ও নতুন ক্রিকেট হাবের পরিকল্পনা রয়েছে।
বিসিবির লক্ষ্য হলো গ্রাসরুট উন্নয়ন, বয়সভিত্তিক ক্রিকেট এবং খেলোয়াড় ও কোচদের দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা।
আজ বুধবার শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভার পর এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়। সভার সভাপতিত্ব করেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল।
সভায় উপস্থিত ছিলেন পরিচালক নাজমুল আবেদীন, খালেদ মাসুদ, খান আবদুর রাজ্জাক ও আমজাদ হুসাইন, পাশাপাশি সিইও নিজাম উদ্দিন চৌধুরী, জাতীয় নির্বাচক প্যানেলের চেয়ারম্যান গাজী আশরাফ হোসেন, টুর্নামেন্টস ম্যানেজার আবু এমাম মোহাম্মদ কাউসার, জাতীয় দলের সিনিয়র সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন, সিনিয়র কোচ মিজানুর রহমান বাবুল ও শোহেল ইসলাম, জাতীয় নির্বাচক হাসিবুল হোসেন, জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল, এইচপির দায়িত্বে জামাল উদ্দিন বাবু ও মহিলা ক্রিকেট ইনচার্জ বুলবুল বাশার।
সভায় প্রধান প্রস্তাবের মধ্যে ছিল অনূধ্ব-২৩ খেলোয়াড়দের জন্য ন্যাশনাল ক্রিকেট অ্যাকাডেমি প্রোগ্রামের সূচনা, যা বিস্তৃত কাঠামোর অংশ হিসেবে নেওয়া হবে।
বিসিবি এক বিবৃতিতে জানায়, ‘সভায় গ্রাসরুট ও বয়সভিত্তিক ক্রিকেটের বর্তমান কাঠামোর কার্যকারিতা পর্যালোচনা করা হয়েছে এবং উন্নয়নের জন্য প্রধান ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশেষভাবে বয়সভিত্তিক নির্বাচনের প্রক্রিয়া পুনর্বিবেচনা ও বর্তমান বয়স যাচাই পদ্ধতির পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে, যাতে স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করা যায়।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘মুখ্য আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে কোচদের জন্য প্রণোদনা ব্যবস্থা চালু করার প্রস্তাবও ছিল, যারা তাদের অধীনে খেলোয়াড়দের সফলভাবে গড়ে তুলবেন। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও পারফরম্যান্স ট্র্যাকিংয়ের জন্য ঘরোয়া প্রতিযোগিতার সকল খেলোয়াড়কে অন্তর্ভুক্ত করে একটি সমন্বিত খেলোয়াড় ডাটাবেস গড়ে তোলার গুরুত্বও তুলে ধরা হয়েছে।’
সভায় জেলা ও বিভাগীয় কোচদের বেতন কাঠামো, কোচদের পেশাগত উন্নয়ন ও ক্রমবর্ধমান ক্যারিয়ার পথ নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তাও আলোচিত হয়েছে। এছাড়া, কোচিং ও গেম এডুকেশন কারিকুলাম পুনঃমূল্যায়নের জন্য একটি কারিকুলাম রিভিউ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিসিবি কর্মকর্তারা ঘোষণা করেছেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে আটটি ক্রিকেট হাব চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম ধাপে ১৩৭টি উইকেট তৈরি করা হবে।
হাবগুলো স্থাপিত হবে খুলনা, বরিশাল, ফতুল্লা, কক্সবাজার, বগুড়া, রাজশাহী, বিএসকেপি এবং পূর্বাচলে। পরিকল্পনা অনুযায়ী খুলনায় ১৫টি, বরিশালে ২৩টি, কক্সবাজারে ৮টি, বগুড়ায় ১০টি, রাজশাহী ১২টি, ফতুল্লায় ১৩টি, বিএসকেপি ৩ ও ৪ নম্বর মাঠে ১৯টি এবং পূর্বাচলে ১৩টি উইকেট প্রস্তুত করা হবে।
প্র্যাকটিস, ম্যাচ এবং আউটার গ্রাউন্ডসহ এই উইকেটগুলো মে–জুনের মধ্যে প্রস্তুত হওয়ার আশা করা হচ্ছে। বিসিবি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিকল্পনা সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে আগামী মৌসুম থেকে জেলা লিগগুলো সহজে আয়োজন করা সম্ভব হবে।
বিসিবি পরিচালক আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘ক্রিকেটের দিক থেকে এটি একটি বিশাল উদ্যোগ। আমরা যদি এটি সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারি, প্রথম ধাপ সফলভাবে শেষ হবে। জুনের মধ্যে কাজ শেষ হলে, ঢাকার বাইরের লিগগুলো আগামী মৌসুমে খুব সহজে আয়োজন করা সম্ভব হবে।’




















